পঞ্চগড়ে দম্পতিকে একঘরে

স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ আদালতের

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মৌখিক তিন তালাকের জেরে দম্পতিকে একঘরে করে রাখার ঘটনাটি স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চগড়ের আদালত। জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান দি কোর্ট অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এর ১৯১ (১) সি ধারার বিধানমতে বিষয়টিকে আমলে নেন। গত ১১ আগস্ট ওই আদালতে এ সংক্রান্ত মিস কেস দায়ের করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দম্পতিকে একঘরে করে রাখার বিষয়টি গত ১১ আগস্ট একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। মৌখিক তালাকের জের ধরে সমাজপতিরা দেবীগঞ্জের সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের দরিদ্র এক দম্পতিকে দুই মাস ধরে একঘরে করে রাখে।

এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নেয় আদালত। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে আগামী ২২ আগস্ট ওই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দেবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশনামায় বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলিমদের বিয়ে ও তালাক হয় ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী। শরিয়াহ আইনের মূল ভিত্তি হলো কোরআন ও সহিহ হাদিস। কোরআন ও সহিহ হাদিসের নির্ধারিত বিধিবিধানের আলোকে একজন মুসলিম এক বৈঠকে বা একসঙ্গে একাধিকবার তালাক শব্দটি উচ্চারণ করলেও তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে। কখনো তিন তালাক হবে না। এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর পুনরায় আপস-সমঝোতায় পুনরায় বিবাহ ছাড়াই সংসার করতে বাধা থাকবে না। অথচ আলোচ্য ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের স্থানীয় সমাজপতি ও ধর্মীয় নেতারা মনগড়া ফতোয়া জারি করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই দম্পতিকে চার মাস ধরে একঘরে করে রেখেছে। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী যা গুরুতর অপরাধ।

আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ থানার ওসি মো. জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো হাতে কোনো কাগজ পাইনি। নির্দেশনা পেলে নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’