‘মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের কথা আ. লীগ বলে না’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ওপর দিয়ে হেঁটে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন তাদের কথা আওয়ামী লীগ বলে না।”

তিনি বলেন, “কর্নেল তাহের বঙ্গভবনে বৈঠক করেছিলেন খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে। তাদের কথাও আওয়ামী লীগ বলে না।”

সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার আরোগ্য, দীর্ঘায়ু ও মুক্তি কামনায় এবং সারা দেশে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের পরে কারা ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ, তাদেরই নেতা খোন্দকার মোশতাক আহমেদ সেদিন ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে- এই কথা আমরা ভুলে যাইনি। তাদেরই সেনাপ্রধান সেদিন ছিল শফিউল্লাহ। তাকে তারা পরবর্তীকালে এমপি বানিয়েছে এবং সেই সময়ের যারা কুশীলব ছিলেন তাদের প্রত্যেককেই এখন মর্যাদার সাথে তাদের সরকারে অবস্থান দিয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘১৫ আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে সেদিন যারা বিভিন্নভাবে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে আঁতাত করেছিল এবং তাদেরকে সাহায্য করেছিল সেই কর্নেল তাহেরের নাম কিন্তু তারা একবারও উচ্চারণ করে না। কর্নেল তাহের সেদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে রেডিও সেন্টারে এসেছিলেন এবং তারপরের দিন বঙ্গভবনে মিটিংও করেছেন। তাদের কথা তারা বলে না। তারা তৎকালীন জাসদের গণবাহিনীর নেতা হাসানুল হক ইনুর কথা একবারও বলে না। বরং তাকে তারা মন্ত্রী বানিয়েছে। ৭৫ সালে সামরিক আইন জারি করেছিলেন খোন্দকার মোশতাক। এই কথা জনগণের কাছে তারা কখনো বলে না।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সরকার ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য এবং জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অপমানজনক কথাবার্তা বলছে। এই কথাবার্তাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করা।”

করোনা ভাইরাসের গণ টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার করোনা পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই টিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্নীতি করেছে। তারা গণটিকা প্রদানের নামে আরেকটি তামাশা জনগণের সামনে উপস্থিত করেছে। যার ফলে সমগ্র দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।”

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে দলের স্থায়ী কমিটির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান ও আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।