চতুর্থ অধ্যায়
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
সৃজনশীল
১. জুলহাস তার পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিল। হঠাৎ সে খেয়াল করল তার চেয়ার, টেবিল, বই, খাতা, কলম একত্রে কাঁপছে। জুলহাস ভয় পেয়ে চারদিকে তাকাতেই শোকেসের ওপর রাখা জিনিসপত্রগুলো আপনা-আপনি নিচে পড়ে যেতে দেখল।
ক. কোন নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশে?
খ. জাপানকে ভূমিকম্পের দেশ বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জুলহাস যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ওই পরিস্থিতির সময় এবং পরে জুলহাসের করণীয় কী পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর
ক. ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশে।
খ. ভৌগোলিকভাবে জাপানের অবস্থান হলো প্রশান্ত মহাসাগরের বহিঃসীমা বরাবর। পৃথিবীর সবচেয়ে ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা হলো জাপান। কেননা এর অবস্থান হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় দুটি ভিত্তিশীলা বা প্লেট বরাবর। সে কারণে এখানে ভূমিকম্প হয় সবচেয়ে বেশি। তা ছাড়া জাপানে আগ্নেয়গিরির কারণেও ভূমিকম্প হয়। তাই জাপানকে ভূমিকম্পের দেশ বলা হয়।
গ. উদ্দীপকে জুলহাস ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছিল। ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না। ভূমিকম্পের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো ভূপৃষ্ঠের টেকটোনিক প্লেটের আলোড়ন। পৃথিবীর গঠন উপাদান যে টেকটোনিক প্লেট তার মধ্যে কখনো যদি আলোড়ন সৃষ্টি হয় তবে তা ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। আবার ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক কোনো আলোড়ন বা কম্পনের ফলেও ভূমিকম্প হতে পারে। এ ছাড়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসেও ভূমিকম্প হতে পারে।
ঘ. ওই পরিস্থিতির সময় কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হয়। যেমন
১. নিজেকে শান্ত রাখা।
২. একতলা দালান হলে দৌড়ে বাইরে চলে আসা এবং কোনো কিছুর লোভে ঘরে অবস্থান না করা।
৩. বহুতল ভবনের ভেতরে থাকলে এবং রাতে ভূমিকম্প হলে টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে যাওয়া এবং কাচের জানালা থেকে দূরে থাকা। প্রয়োজনে ঘরের কোণে বা বিল্ডিংয়ের কলামের গোড়ায় আশ্রয় নেওয়া।
৪. ঘরের বাইরে থাকলে দালান, বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও গ্যাসলাইন থেকে দূরে থাকা।
৫. রাস্তায় গাড়িতে থাকলে গাড়ি না চালিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখা ইত্যাদি।
ভূমিকম্পের পরেও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। যেমন
১. নিজের ও অন্যদের আঘাত পরীক্ষা করা।
২. পানি, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা করা।
৩. ঘরের দরজা-জানালা খুলে দেওয়া।
৪. রেডিও, টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম খোলা রাখা।
৫. খালি পায়ে চলাফেরা না করা।
৬. লুটতরাজ থেকে সাবধান থাকা এবং অভিজ্ঞ লোকদের পরামর্শমতো চলা ইত্যাদি।
এভাবে চলতে পারলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকবে।