হাইকোর্টের নজরে দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন

টাগবোট কেনা নিয়ে দুনীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

দেশ রূপান্তরে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টাগবোট না পেয়েই ২৩ কোটি টাকা বিল পরিশোধ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে এসেছে।

প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আজ এ আদেশ দেন।

আদেশে দুদককে সহযোগিতা করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বলেছেন আদালত।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশিদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমির উদ্দিন মানিক।

এ প্রসঙ্গে খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, টাগবোট কেনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আসলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতের আদেশ সাপেক্ষে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করবো।

হাইকোর্টের নজরে আসা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ টাগবোট (সাহায্যকারী জলযান) কিনতে ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিল একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে টাগবোটটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও তা সরবরাহ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড।

এমন পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা পালন না করে উল্টো টাগবোটের দেখা না পেলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে চার ধাপে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৩ টাকা বিল দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ টাগবোট কিনতে যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল তার জন্য ৩৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাস হয়। সেখানেও সংস্থাটি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে। একটি জলযান কিনতে পদে পদে অনিয়মের এমন চিত্র উঠে এসেছে খোদ সরকারি একটি দায়িত্বশীল সংস্থার প্রতিবেদনে।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) একটি প্রকল্পের আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাগবোট (৩২০০ বিএইচপি) কেনার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে জলযানটি চবককে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে না পারায় ওই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বর্ধিত ওই মেয়াদের মধ্যেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টাগবোট সরবরাহ করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে গত বছর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে চবককে নির্দেশনা দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে উল্টো কয়েক দফায় বিল দেওয়া হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে।