‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে তালেবানদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত হবে না’

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও শান্তি ও গণতন্ত্রকামী দেশের পক্ষে তালেবানদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

তিনি আর বলেছেন, সম্প্রতি আফগানিস্তানে যে মৌলবাদী সন্ত্রাসী তালেবান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে তাদের রাজনীতি এবং বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত এবং তাদের তল্পিবাহকরা একই রাজনীতি অনুসরণ করে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে 'বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মৌলবাদের উত্থান এবং আমাদের করণীয়' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এই কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, তালেবান ধর্মের নামে ভিন্নধর্ম, ভিন্নমত, ভিন্ন জীবনধারার অনুসারী বিশেষভাবে নারীসমাজের উপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালিয়েছে। ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ জঙ্গি জিহাদিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। 'গাজওয়ায়ে হিন্দ'-এর কথা বলে তালেবান, আল কায়দা, আইএস জঙ্গি সন্ত্রাসীরা ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে, যার প্রধান মদদদাতা হচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ও আফগানিস্তানের তালেবানের মূল ঘাঁটি পাকিস্তানে।

ওয়েবিনারে নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদারের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), বীরমুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসান খান ও একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্র শিল্পী পাভেল রহমান। অন্যান্যদের ভেতর সভায় বক্তব্য প্রদান করেন নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সমাজকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট পরিবেশবিদ পল অবোহভ, নির্মূল কমিটির সর্বইউরোপীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, তুরস্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক লেখক চলচ্চিত্র নির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, জাগরণের হিন্দ বিভাগের সম্পাদক তাপস দাস, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশফাক কে রহমান, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশিদ, নির্মূল কমিটি অস্ট্রেলিয়া শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর কেনেডি, নির্মূল কমিটি সহসভাপতি হাসান ফারুক শিমুল রবিন ও সাজ্জাদ সিদ্দিকী, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সামস রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ড. রতন কুন্ডু, চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজ প্রাক্তন ছাত্রনেতা ভিপি ইফতেখার উদ্দিন ইফতু, মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিবেশ উপকমিটির সদস্য মির্জা খালেদ আল আব্বাস।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, '১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড বোমা হামলা ও হত্যাকাণ্ড একই রাজনীতির অন্তর্গত। এদেশের পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী ঘাতক এবং তাদের সহযোগীরা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু এবং তার প্রধান সহযোগী মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করে '৭১-এর শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে পাকিস্তানের মতো ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানপ্রেমী বিএনপি-জামায়াত-ফ্রিডম পার্টি গং হামলার আগে বলেছিল শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখে বাংলাদেশে তাদের ইসলাম কায়েম করা যাবে না। তাদের ইসলাম হচ্ছে মওদুদিবাদী, সালাফিবাদী কট্টর রাজনৈতিক ইসলাম, যার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিসাধকদের দ্বারা প্রচারিত শান্তি সমন্বয় ও সহমর্মিতার ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে ধর্মের নামে এই পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী রাজনীতি বিভিন্নভাবে বিকশিত হচ্ছে। উপমহাদেশের মৌলবাদী রাজনৈতিক ইসলামের জন্মদাতা জামায়াতে ইসলামী।'