কক্সবাজারে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়া সৈকতে পর্যটকের ভিড়

পর্যটন খুলে দেওয়ায় পর গত শুক্র ও গতকাল শনিবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পর্যটকে সরব। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশের মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। যেন নীরবতা ভেঙে সরব। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অবশ্য, জেলা প্রশাসনের দাবি, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে খুব সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

করোনা সংক্রামণ রোধে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট পর্যটন খুলে দেওয়া হয়। ওই দিন থেকেই সৈকতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পর্যটকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একঘরে বন্দি থেকে এবং শহরে যান্ত্রিকজীবন থেকে মুক্তি পেতে কক্সবাজার ভ্রমণে ছুটে এসেছেন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন।

গতকাল পর্যটকমুখর সৈকতে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি কাউকে। একইভাবে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নেও তেমন কারও আগ্রহ নেই। যে যার মতো করে সৈকতে ঘোরাফেরা করছেন। দূরত্ব যেমন মানা হচ্ছে না, তেমনি কারও মুখে নেই মাস্ক।

পর্যটক তৌহিদ ও মীম দম্পতি বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। তাই সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার সৈকতে আসা। কিন্তু মুখে মাস্ক পরতে পরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এগুলো আর ভালো লাগে না। সৈকতে এসেও যদি মাস্ক পরতে হয়, তাহলে ভ্রমণ করার কী দরকার?’

কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম জানান, ‘সরকারের দেওয়া সব শর্ত মানা হচ্ছে। সৈকতে পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা সেই দায়িত্ব আমাদের নয়। কক্সবাজারে পর্যটন জোনে যেসব হোটেল মোটেল রয়েছে সবকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের রুম বুকিং দিচ্ছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, হোটেলে ৫০ শতাংশের অধিক কক্ষ ভাড়া দেয়া যাবে না। রেস্টুরেন্টসহ সবখানে পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটকরা যাতে আবাসন নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটন খোলা হলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এজন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টিতে থাকবে। আর যে পর্যটকরা আসবে তাদেরও দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রয়োজন। সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি স্যানিটাইজার ও মুখে মাস্ক পরা অবশ্য দরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।