জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

পাকিস্তানের দোসর একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। জাসদ ও ভাসানী (ন্যাপ) এর একটি অংশও এ হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী

রবিবার বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২১ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ও বলিষ্ঠ প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু হত্যায় সরাসরি জড়িতদের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারী ও ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীদের শনাক্তকরণসহ বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য অচিরেই একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে মর্মে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আগস্ট সর্বতোভাবে একটি শোকের মাস। এ মাসে একদিকে যেমন আমরা সপরিবারে জাতির পিতাকে হারিয়েছি, অন্যদিকে এ মাসেই আমরা হারিয়েছি বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। আর এ মাসেই সংঘটিত হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এ মাসেই জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে কয়েক লাখ মানুষকে নিমেষেই হত্যা করা হয়।”

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান আলোচক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, “বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে বহু বিখ্যাত নেতার জন্ম হয়েছে। তারা কেউ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নাই। একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বাঙালির জন্য একটি জাতিরাষ্ট্র উপহার দিতে পেরেছেন। তাছাড়া একক নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নজির পৃথিবীতে নেই যেটি বঙ্গবন্ধু করতে পেরেছেন। তাই সকল বিচারেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। ২০০৪ সালে বিবিসি'র জরিপে সেটা আবার যথার্থভাবেই প্রতীয়মান হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাতীয় জাদুঘর এর কীপার ড. শিহাব শাহরিয়ার।