ফেনীর সোনাগাজীতে মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন মো. নুরুল আফসার সবুজ নামে এক দিনমজুর।
সোমবার ‘চাঁদা আদায়, জানমালের ক্ষতি ও হুমকির’ প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তিনি।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ গ্রামের জেবল হকের ছেলে। তিনি নয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব রয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন দিনমজুর চরছান্দিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী ছেলে।
অভিযোগের বিষয়ে দিনমজুর সবুজের সঙ্গে কথা হলে তিনি চাঁদা আদায়ের কথোপকথনের চার মিনিটের অডিও রেকর্ড শুনিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন,পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো আমার নিজস্ব কোনো জমি ও ঘর নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্য জামশেদ আলমের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিই। এর কিছুদিন পর নুর উদ্দিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় চার শ জন ঘর পাওয়ার আবেদন করলেও তিনি ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমিসহ ১৩ জনের ঘর পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।
সবুজ অভিযোগ করে বলেন, ঘরের রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া চলছে তাই টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যাবে না বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি তাকে টাকা দিতে পারব না বলে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে আবারও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা না দিলে ঘর অন্যদের নামে বরাদ্দ করা হবে জানালে উপায়হীন হয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হই। পরে স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিই। টাকা নেয়ার সময় তিনি বিষয়টি কাউকে জানালে ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে হুমকি দিলে আমি ভয়ে কাউকে জানাইনি। গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন আমাকে ঘরের চাবি ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দিলে নুর উদ্দিন রাতে আমার কাছে আরো পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় গালমন্দ ও হুমকি দেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন বলেন, দলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কোনো প্রকার চাঁদাবাজি ও সালিস বাণিজ্যের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।
চাঁদা চাওয়া ও আদায়ের অডিও রয়েছে জানালে তিনি সরাসরি কথা বলবে জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার ক্ষমতা কোনো আওয়ামী লীগ নেতার নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারের তালিকা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাদ্দ দেন।
স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
সোনাগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক জানান, দক্ষিণ চরদরবেশ আদর্শগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসের জন্য মঙ্গলবার ৩৭ জনের কাছে ঘরের চাবি ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরো ৪৭ জনের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘর পেতে চাঁদাবাজির বিষয়টি অবগত নই।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এন জহিরুল হায়াত জানায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এখানে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘর পেতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।