হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়নি। তারপরও এই ড্রয়ে হারের সমান বেদনা জমা হয়েছে বসুন্ধরা কিংস ফুটবলারদের হৃদয়ে। মোহনবাগানের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে শেষ হয়েছে এএফসি কাপের পরের ধাপে যাওয়ার আশা। তবুও মাথা উঁচুই থাকছে কিংসদের। ভারত সেরাদের সঙ্গে সমানে সমান পাল্লা দিয়ে তো জয়ের পথেই ছিল তারা। রেফারির বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে হয়েছে সর্বনাশ। তা না হলে গতকালের মালের রাতটা হতো শুধুই কিংসের।
জোনাথন ফার্নান্দেজের আচমকা গোলে এগিয়ে যাওয়া ২৮ মিনিটে। তার আগ পর্যন্ত অস্কার ব্রুজন যে ছকে চেয়েছিলেন অভিজ্ঞ আন্তোনিও হাবাসকে বিভ্রান্ত করতে, সেটা কিন্তু পেরেছিলেনও। ছক বদলে ৪-২-৩-১ ফরম্যাট সাজাতে ব্রুজন ঝুঁকি নিলেন আতিকুর রহমান ফাহাদ ও সুশান্ত ত্রিপুরাকে শুরুর একাদশে এনে। তাও পুরোদস্তুর রাইটব্যাক সুশান্তকে রাইট উইংয়ে খেলিয়ে। কোচের এই ছক ঠিকই কাজ করছিল। শুরুতে কিছুটা চাপ প্রয়োগ করে গোল আদায়ের পর বলের নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিয়েই ব্রুজন চেয়েছিলেন সাফল্য পেতে। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাগানের শুভাশীষ বসুর সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে গিয়ে অকারণেই সুশান্তকে দেখতে হলো লালকার্ড।
১০ জনের কিংসকে পেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে চেপে ধরেও গোলের নাগাল পাচ্ছিল না বাগান। কিন্তু লিস্টন কোলাসোর একটা মুভেই ভাঙল রক্ষণের প্রতিরোধ। তার সাজিয়ে দেওয়া বলে পা ছোঁয়ানোর কাজটা কেবল করলেন ডেভিড উইলিয়ামস। সংবাদ সম্মেলনে এসে ভব্যতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসেননি কিংস কোচ ব্রুজন। রেফারির সমালোচনা না করে বরং শিষ্যদের কৃতিত্ব দিয়েছেন, ‘এমন বিদায়ে কষ্টের সঙ্গে আছে গর্বও। আমি যদি রেফারির বিপক্ষে কথা বলি, তাহলে হয়তো কমপক্ষে ৩৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ হব। এটা আমাদের ক্লাবের বিষয়। তারাই হয়তো এটা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে। শুধু এই ম্যাচ নয়, বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও হয়তো ক্লাব কিছু করবে। মাঠে কী হয়েছে, তা আপনারা সবাই দেখেছেন (হাসি)। তবে এটা ঠিক একজন কম নিয়ে খেলা মানেই প্রতিপক্ষ কিছু সুবিধা পাবে। তারপরও আমি আমার দল নিয়ে গর্বিত। ১০ জন নিয়ে তারা যে লড়াইটা করেছে সেটা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যখন বিরতিতে যাই। ভেবেছিলাম লিডটা ধরে রাখতে পারব। কিন্তু একটা প্রতি আক্রমণ থেকে একটাই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে।’
কাল ম্যাচ সেরার স্বীকৃতির সান্ত¡না পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহো, লক্ষ্যপূরণ না হলেও গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়াটাকে বিশেষ কিছু দাবি করলেন, ‘আমরা এই ম্যাচের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো আমাদের জানা ছিল। তারপরও হলো না। এটা বাদ দিলে এখানে আমাদের নিয়ে গর্ব করার অনেক কিছুই আছে। অবশ্য লক্ষ্যপূরণ হয়নি। তারপরও কঠিন এই মঞ্চে দ্বিতীয় হওয়াও অনেক কিছু।’
গ্রুপসেরা হয়ে পরের ধাপ নিশ্চিত হওয়ার কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের দিয়ে বাগান কোচ হাবাস বললেন, ‘মাত্র ১৫ জন পেশাদার ফুটবলার নিয়ে এসেছিলাম এখানে। বাকিরা সবাই তরুণ, অ্যাকাডেমি থেকে আসা। আমি সত্যিই খুব গর্বিত এই দল নিয়ে। কারণ প্রতিপক্ষ ছিল খুব কঠিন। তারা একজন কম নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ খেলেছে। তাই পরিকল্পনাই ছিল দুই উইং কাজে লাগিয়ে আক্রমণ করে যাওয়া। জানতাম ম্যান মার্কিংয়ে একবার তো তারা ভুল করবেই। আমরা সেটার অপেক্ষায় ছিলাম।’
বিদেশের মাটিতে প্রথম কোনো আসর খেলতে এসে হয়তো লক্ষ্যপূরণ হয়নি। তবে ভালো ফুটবল খেলার গর্ব নিয়েই আজ দেশে ফিরে যাবে কিংস।