কুষ্টিয়ায় এক বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন জেলাটির সাবেক এসপি (পুলিশ সুপার) তানভীর আরাফাত। তাকে ভবিষ্যতে পেশাগত আচরণের বিষয়ে সতর্ক করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আদালত অবমাননা সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয়।
পুলিশ কর্মকর্তা তানভীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।
গত ১৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে এসপি তানভীর দায়িত্বরত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মহসীন হাসানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। এসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরদিন বিচারক মহসীন হাসান নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর অভিযোগ করেন। বিষয়টি নজরে আনা হলে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশ দেয়। সেদিন এসপি তানভীর আরাফাতকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশসহ এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এ মর্মে রুল জারি করা হয়। এসপিকে হাজির হতে আদেশের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলে, ‘দায়িত্বরত একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পুলিশ সুপার যে আচরণ করেছেন, তা বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপই শুধু নয়, আদালত অবমাননা এবং পুরো বিচার বিভাগের প্রতি প্রচণ্ড আঘাতের শামিল।’
অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এসপি তানভীর। ওইদিন তার উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছিল, ‘পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, সে যেই হোক। পুলিশ যাতে ভীতিকর না হয়ে বন্ধু হয়। মানুষ যাতে মনে না করে যে এটি পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে গেছে।’ লিখিত ব্যাখ্যায় এই পুলিশ কর্মকর্তা ১৬ জানুয়ারির ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তিনি (এসপি) বিচারককে চিনতে পারেননি। অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হবেন। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত।