জনপ্রিয় সিনে তারকা পরীমনির জামিন আবেদনের ওপর অবিলম্বে শুনানি করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না— ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের কাছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
গত ২২ আগস্ট পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। পরদিন আরেক আবেদনে ‘দ্রুত শুনানির’ আরজি জানান পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান। তাতে সাড়া না পেয়ে বুধবার তিনি হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন।
সেখানে রুল চাওয়ার পাশাপাশি পরীমনির জামিনের আবেদনও করা হয়।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সরাসরি জামিনের আদেশ না দিয়ে রুল জারি করেছে। ২৩ আগস্ট পরীমনির আইনজীবীর করা দ্রুত শুনানির আবেদনের ওপর (আদেশের অনুলিপি পাওয়ার) দুই দিনের মধ্যে শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে এ রুলে।
সেই সঙ্গে ২২ আগস্ট পরীমনি জামিন অবেদন করার পর তিন সপ্তাহ পরে শুনানির তারিখ রেখে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছে, সেটি কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে মহানগর দায়রা জজ আদালতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের এ আদেশ বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রুল জারি করে।
আদালতে পরীমনির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান।
সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মজিবুর রহমান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
গত ৪ আগস্ট ‘বিপুল পরিমাণ মাদক’সহ বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৯ আগস্ট এক দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট তাকে আদালতে আনা হলে সিআইডি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।