স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। মাত্র ৫৫ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি। এই বয়সে জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় পুলিশ কনভেনশন হলে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ, র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সব পুলিশ ইউনিট থেকে অন্যান্য কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন বলি, বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অনেকে এর বিরোধিতা করেন। আজকে আমাদের কাছে যে রেকর্ডপত্র রয়েছে আমাদের প্রিজনে যে রেকর্ডপত্র রয়েছে, এসবিতে যে রেকর্ডপত্র রয়েছে তাতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে, তিনি জেলে বসে নির্দেশনা দিতেন, চিঠি লিখতেন, কীভাবে ভাষা আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে। তিনি ৫২ ভাষা আন্দোলনের পর ৫৪, ৬৬ ও ৬৯ এর আন্দোলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে জনগণের কাছ থেকে স্বাধীনতার ম্যান্ডেট আদায় করেছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন সবখানে ছিল নাই, নাই। বঙ্গবন্ধু তার দক্ষতা দিয়ে, সৎ সাহস দিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন। এ জন্যই ঘাতকরা তাকে বাঁচিয়ে রাখেনি। ঘাতকরা জানত, বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে সে-ই ঘুরে দাঁড়াবে। তাদের আশঙ্কা যথার্থই হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন একে একে তিনি বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে বদলে দেবেন। আজ তিনি বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু জনগণের পুলিশ গড়তে চেয়েছিলেন। আজ আমাদের পুলিশ সেই জায়গাটিতে গিয়েছে। তারা আজ যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। জঙ্গি, সন্ত্রাস দমন থেকে আরম্ভ করে সবকিছু তারা সমানতালে করে যাচ্ছে বলে আমরা দেশকে শান্তির দেশে পরিণত করতে পেরেছি।
মুখ্য আলোচক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বিশ্বমিডিয়ায় বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনৈতিক কবি' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আর কাউকে দেওয়া হয়েছে কিনা আমি পাইনি। বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম বাঙালির ইতিহাসে সার্বভৌম ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যখন বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছিলেন আপনারা লক্ষ্য করবেন, সেদিন প্রত্যেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কাজ করেছে, ঠিক সেভাবেই সব কাজ চলেছে।
সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে ভালবাসতেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।
আইজিপি তার বক্তব্যে বলেন, চার হাজার বছরে বাঙালির নিজেদের স্বাধীন করার কোনো ইতিহাস নেই। চার হাজার বছর ধরে বাঙালি ছিল নির্যাতিত, বঞ্চিত। ক্ষুধা, জরা দারিদ্র ছিল আমাদের নিত্যসঙ্গী। বঙ্গবন্ধু যখন বলেন, 'আজ আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি' আসলে তিনি আমাদের চার হাজার বছরের দুঃখের কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ দেশের প্রতিটি খেটে-খাওয়া মানুষের প্রতি, কাদামাটির গন্ধ মাখা মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল।
আইজিপি বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী সুযোগ পেয়েছেন এবং দেশের সেবা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের ফলে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর কাছে হাজার বছর ধরেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে এটি শেষ হবে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হবে।
সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ ছাড়া জাতির পিতার জীবনের ওপর নির্মিত লাইট আর্টস প্রদর্শন করা হয়।