করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের বিষয়টি। হার্ড ইমিউনিটি অর্জন নিয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, একেই বলা হচ্ছিল একমাত্র সমাধান। এ নিয়ে একাধিক দেশের বিজ্ঞানীরাও কাজ করছিলেন। কিন্তু করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে বলে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক পর্যায়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন তখনই সম্ভব হয় যখন অধিকাংশ মানুষই ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হয় অথবা ভাইরাসটি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীতে প্রতিদিনই এখনো বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু অ্যান্টবডি সেই অনুসারে মানবদেহে তৈরি হচ্ছে না। ভাইরাসবিদ মিরসিয়া সোফেনা এএফপিকে বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, টিকার মাধ্যমেই শুধু মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ বা হারানো সম্ভব কি না। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর ও সংক্রমণ রোধে ভ্যাকসিন থেকে শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তা বিচার করার বিষয়। আর এই মুহূর্তে এর একটিও হচ্ছে, এমনটা বলা যাবে না।’
আলফা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি সংক্রামক ডেল্টা। ২০১৯ সালে করোনার যে ধরনটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল তার চেয়ে বর্তমান ধরনগুলো অনেক শক্তিশালী ও সংক্রামক। নিয়মিত রূপান্তরিত হওয়ায় মানবদেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তাও ভেঙে যাচ্ছে নতুন নতুন ধরনের কাছে। ফলে সংক্রমণের শিকার হলেই যে হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হবে, এমন তত্ত্ব আর কাজে আসছে না। ভাইরাসবিদ অ্যান্টনিও ফ্লাহেল্ট মনে করেন, ‘তাত্ত্বিকভাবে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের বিষয়টি খুব সাধারণ সমীকরণ বলে মনে হয়।’
ডেল্টাকে শতভাগ প্রতিরোধ করতে পারে এমন কোনো ভ্যাকসিন এখনো বাজারে আসেনি। ফলে যা আছে তাই দিয়ে ডেল্টাকে প্রতিরোধ করতে হচ্ছে। এতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচছে সত্যি, কিন্তু একই সঙ্গে ভাইরাসটি নতুনভাবে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। যে শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপাদন হয়নি, সেই শরীরে ডেল্টার সংক্রমণকে তাই অনেক ভয়ংকর বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এমন দুর্বল শরীরেই ডেল্টা নতুন করে রূপান্তরিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক তথ্যমতে, ফাইজার ও মডার্না ভ্যাকসিনের ফলে উৎপাদিত অ্যান্টিবডি মানবদেহে ছয় মাসের বেশি থাকে না। ছয় মাস পর নতুন করে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে আগে দেওয়া ভ্যাকসিন কোনো কাজেই আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এজন্যই বুস্টার ডোজের কথা বলছেন।