তৃতীয় অধ্যায় : স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা
সাধারণ প্রশ্ন
১. এইডস চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধই উত্তম ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : এইডসকে বলা হয় মরণব্যাধি বা ঘাতকব্যাধি। সম্পূর্ণ নিরাময় করতে পারে এমন কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই এইডস চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধই উত্তম। এইচআইভি/এইডস ঝুঁকি প্রতিরোধে সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে হবে। কৌতূহল ও আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোর-কিশোরীরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। আক্রান্ত হওয়ার আগে যদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তাহলে চিকিৎসার কোনো প্রয়োজন হয় না। যেমন ধূমপান করলে স্ট্রোক হয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই ধূমপান ত্যাগ করা হলো স্ট্রোক প্রতিরোধ করা। তাই যেসব কারণে এইডস হয় সে কাজগুলো থেকে বিরত থাকাই হলো প্রতিরোধ করা। যেমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার, আবেগ প্রশমন, ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি মেনে চলা, অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ না করা, অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা, অনৈতিক, অনিরাপদ ও অনিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক না করা ইত্যাদির মাধ্যমে এইডস রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যে র্যালির আয়োজন, পত্রিকায় প্রচার, মিডিয়ায় নাটক ও সংগীত প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার একই রঙের পোশাক প্রভৃতিতে সজ্জিত হয়ে সেøাগান সহকারে র্যালিতে অংশ নিলে তা সহজেই দর্শকদের নজর কাড়ে এবং এইডস বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতন মানবসমাজ যথাসময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে এইডস মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই এইডস বিষয়ে অন্যকে সচেতন করতে হলে নিচের বিষয়গুলো জানা থাকা দরকার
১. এইচআইভি/এইডস কী, ২. এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে ছড়ায় না, ৩. এইচআইভি/এইডসের লক্ষণসমূহ, ৪. এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, ৫. এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের উপায়সমূহ, ৬. এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা।
২. এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের উপায় কী?
ভূমিকা : এইচআইভি/এইডস কী, কীভাবে সংক্রমিত হয়, লক্ষণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।
এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের উপায় : এইচআইভি/এইডস যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তা হলো
ক. ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার : এইচআইভি/এইডস ঝুঁকি প্রতিরোধে সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে হবে।
খ. আবেগ প্রশমন : কৌতূহল ও আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোর-কিশোরীরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। অনেক সময় মা-বাবার শাসনের ফলে রাগ বা অভিমান করে তারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে বসে। বড়দের সঙ্গে বিশেষ করে মা-বাবার সঙ্গে খোলামেলা কথা বললে সহজে আবেগ প্রশমিত হয় এবং এতে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
গ. ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান : ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য না বলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় অনৈতিক বা অনাকাক্সিক্ষত প্রস্তাব চক্ষুলজ্জায় বা ভয়ে সরাসরি না বলতে পারে না। তাই কীভাবে না বলতে হবে তা জানতে ও শিখতে হবে। নিজেকে দৃঢ়চেতা হতে হবে এবং বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেই না বলার কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
ঘ. ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি মেনে চলা : নেশা করা, মাদকাসক্ত হওয়া, অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন কোনো ধর্ম বা সমাজ অনুমোদন করে না। সামাজিকভাবেও এগুলো অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। তাই ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি মেনে চললে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।
ঙ. সচেতনতা সৃষ্টি : র্যালির আয়োজন, পত্রিকায় প্রচার, রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, সংগীত প্রভৃতির মাধ্যমে এইচআইভি/এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে।