গাজীপুরে অসহনীয় যানজটে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়ার পর গত ১১ আগস্ট থেকে শতভাগ যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। এ মহাসড়কে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ সড়কে চলাচলকারীদের।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়কের উভয় দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও বাড়তে থাকে। যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে রাস্তায় খানাখন্দের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় সড়কে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। যার ফলে ট্রাফিক পুলিশের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না বলে অভিযোগ করছেন সড়কে যাতায়াতকারীরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বিআরটি তাদের কাজ চালিয়ে গেলেও মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে পারেনি। বিভিন্ন জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে সড়ক মেরামত করা হলেও তা এক দিন পরেই ফের আগের অবস্থায় চলে যাচ্ছে। ভাঙা গর্তে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও বৃষ্টিতে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে সেগুলো উঠে গিয়ে ফের গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, বড়বাড়ী, তারগাছ, টঙ্গী কলেজ গেট, চেরাগ আলী, মিলগেট, স্টেশন রোড ও টঙ্গী বাজার এলাকার সড়কের অবস্থা খুবই করুণ। তীব্র যানজটের কারণে এ সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টা সড়কেই নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা সড়কটি পরিদর্শন করে দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার তাগিদ দিলেও তা কার্যকর হয় না। এলাকাবাসী বলছে, ‘লকডাউন’ চলাকালে সড়কে তেমন একটা যানবাহন ছিল না। বিআরটি কর্র্তৃপক্ষের তখন দ্রুত সময়ে সড়কটি মেরামতের সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা তখন মহাসড়ক যান চলাচলের উপযুক্ত করে তুলতে না পারায় এখন প্রতিদিন অসহনীয় যানজটে পড়ে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
যানজটের কারণে প্রতিদিন অফিসগামী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। গাজীপুর থেকে উত্তরায় গিয়ে প্রতিদিন অফিস করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আবদুল হামিদ মিয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল ৯টায় অফিসে হাজির হওয়ার কথা, কিন্তু তিন-চার ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হলেও অনেক সময় সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছতে পারি না। এর জন্য অফিসের বসের কথা শুনতে হয়।’
এ প্রসঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় গাজীপুরমুখী লেনে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো বড় হয়ে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মিলগেট থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো ডিভাইডার নেই। সব মিলিয়ে গাজীপুরমুখী লেনে গাড়ি টানতে পারছেন না ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
বিআরটির প্রকল্পের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যানবাহনের মালিক-চালক-পরিবহন নেতা ও স্থানীয়রা। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বিআরটি কর্র্তৃপক্ষ।