বিজিএমইএর তালিকা হালনাগাদ

বাতিল হচ্ছে উৎপাদনে না থাকা কারখানার সদস্যপদ

তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। চলতি মাসের শুরুতে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১ হাজার ২৭৪টি কারখানাকে সদস্যপদ নবায়নে চিঠি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করলেও বেশিরভাগ সাড়া দেয়নি। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘদিন উৎপাদনে নেই বা বন্ধÑ এমন কারখানার সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এ তালিকায় সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সদস্যদের মধ্যে যেসব কারখানা দীর্ঘদিন উৎপাদনে নেই বা বন্ধ হয়ে গেছে, সদস্য ফি দেয়নি ও নিয়মকানুন মানে না, তাদের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ এসব শর্ত না মানলে তাদের সদস্যপদ থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগের বোর্ড মিটিংয়েই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ফলে কোনো ধরনের রিভিউয়ের সুযোগ নেই। উৎপাদনে নেই এমন কারখানা মালিকদের ডেকেছিলাম। মিটিংয়ে এসে অনেকে সময় চান। তাদের ছাড় দেওয়া হয়।’

জানা গেছে, বিজিএমইএর বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭০০। তবে এর অর্ধেক সদস্যের কোনো কারখানা বর্তমানে উৎপাদনে নেই। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনের নির্বাচনে ঢাকার ১ হাজার ৮৫৩ ও চট্টগ্রামের ৪৬১ কারখানার মালিক ভোট দেন। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধার্য চাঁদা না দেওয়া, কমপ্লায়েন্সের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১ হাজার ৬৫৪ প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪৪৫ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করা হয়।

বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘গত ৭ আগস্ট বিজিএমইএর বোর্ড সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার ১ হাজার ১১১ ও চট্টগ্রামের ১৬৩ সদস্যকে সদস্যপদ নবায়নে চিঠি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে কয়েকজন সদস্য যোগাযোগ করেছেন। বাকিরা যোগাযোগ করেননি। তাদের বিষয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪০টি কারখানা সদস্যপদ হারানোর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়তো ১০০ কারখানা সদস্যপদ নবায়ন করবে। তারপরও কিন্তু এক হাজারের বেশি কারখানার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর ১ হাজার ২০০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।’