কোভিড-১৯ এ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রথমবারের মতো মৃত্যু শূন্য দিন পার করলো ফরিদপুর । এ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো করোনা রোগী মারা যায়নি।
অন্যদিকে শনাক্তের হারও কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২৪.৬২ শতাংশে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অতুল সরকার বলেন, দীর্ঘ চেষ্টা এবং জেলাবাসীর সহযোগিতায় এমনটি হয়েছে। আমরা যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই তবে অবশ্যই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি সকলকেই মেনে চলতে হবে। তবেই আমরা করোনা শতভাগ জয়ী হতে পারবো।
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, চলতি বছরে এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ধাপে করোনা শুরু হলে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যু।
জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত একদিনে একাধিক সময়ে করোনা ও উপসর্গে ২১ জনের মৃত্যু দেখেছে ফরিদপুরবাসী।
তিনি বলেন, জেলায় জুন মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃত্যু ছিল ১৮১ জনে, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে সংখ্যা ৪৯৯ জনে। গত তিন মাসে মৃত্যু হয়েছে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১৮ জনের।
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, জেলায় করোনায় মৃত্যু সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬২২ জন। আর সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত করোনায় ৪৯৯ জনের।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর পিসিআর ল্যাবে ১৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ৪৯ জনের। শনাক্তের হার ২৪.৬২ শতাংশ। যা এর আগে প্রতিদিন জেলায় শনাক্তের হার ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, সরকারের নেওয়া কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধের কারণে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা বিধিনিষেধ মেনে চললে আশা করা যাচ্ছে সামনের দিনে আরও উন্নতি হবে এই পরিস্থিতির।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর ভেতর গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে ভর্তি রয়েছে ১৫ জন করোনা রোগী।