বাংলা একাডেমিতে বুলবুল চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা রবিবার ১১টায়

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরীর মরদেহ রবিবার একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হবে।

শনিবার রাতে সদ্য প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিকের ছেলে রাফী চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, বুলবুল চৌধুরীর মরদেহ সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

তিনি জানান, এর আগে সকাল ৯টায় বাংলাবাজারের বাসার পাশে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দ্বিতীয় জানাজা হবে। পরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের ব্যাপারে কবরস্থান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছে পরিবার। অনুমতি পেলে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাবাজারের বাসায় কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বুলবুল চৌধুরীর ছেলে আর রাফী চৌধুরী বলেন, বাবা অনেক দিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বুলবুল চৌধুরীর ছেলে জানান, ক্যানসার শ্বাসযন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি কেমো নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না। চিকিৎসক বাসায় এসে দেখে যেতেন।

১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বুলবুল চৌধুরী। তার প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ ‘টুকা কাহিনী’। পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বুলবুল চৌধুরীর লেখা অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে 'পরমানুষ', 'মাছের রাত', 'চৈতার বউ গো' প্রভৃতি। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'অপরূপ বিল ঝিল নদী', 'কহকামিনী', 'এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে', 'ইতু বৌদির ঘর', 'জলটুঙ্গি' প্রভৃতি।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক  ছাড়াও পেয়েছেন হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার।