উজাড় হচ্ছে সেগুন বাগান

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা বন বিটের বিস্তীর্ণ এলাকার অনেকাংশে জবর দখল আর অবৈধ বসতিতে ভরে গেছে। অংশীদারিত্বের সামাজিক বনায়নগুলোও বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই। সহস্র একরের সেগুন বাগান নিয়ে বন বিটের অস্তিত্ব টিকে আছে। প্রায় শত বছরের প্রাচীন এ বাগানের শোভা বর্ধন করে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় সেগুন গাছ। তবে বনকর্মীদের অবহেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বাগানটি। প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে এসব মূল্যবান গাছ। এতে ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে সেগুন বাগান।

বন বিট অফিস পরিবেষ্টিত এ বাগান থেকে রাতের আঁধারে বা দিনের আলোতে চোরেরা সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বন বিট অফিস ও শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক কর্তৃপক্ষের নাকের ডগা দিয়ে এসব গাছ পাচার করা হলেও প্রতিরোধে তারা তৎপর নন।

কোদালা বনাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা আবুল ফরাহ, রফিকুল ইসলাম, আবুল কালামসহ কয়েকজন অভিযোগ করেনÑ ‘প্রাচীন সেগুন বাগানের প্রতিটি গাছের মূল্য ২ লাখ টাকারও বেশি। ব্যাপক হারে চুরির কারণে বাগান অনেকাংশে গাছশূন্য হয়ে পড়েছে। অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে একশ্রেণির চোরাই কাঠ ব্যবসায়ী অবাধে বাগানের সেগুন গাছ কেটে পাচার করছে। বাগানের সেগুন গাছ কেটে টুকরো করে বনবিট এবং এভিয়ারি পার্কের কাছ দিয়েই ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হয়। গোপন মজুদ করে চোরাই সেগুন কাঠের বড় চালান চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়।’

কোদালা বনবিট কর্মকর্তা হাসানউজ্জামান সেগুন গাছ চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় চোরেরা কয়েকটি গাছ কেটে নিয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি মামলা রুজু করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম রহমান বলেন, ‘বনবিটের সেগুন গাছ চুরির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’