ঢাকার বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় সাফাতসহ আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
রবিবার ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল।
বিচারক বেগম কামরুন্নাহার পাঁচ আসামিকে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যের মূল বিষয় পড়ে শুনিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করেন যে,তারা দোষী না নির্দোষ? এসময় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ সব আসামি নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।
তারা বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে ঘটনার দিনের কিছু ছবি এবং লিখিত বক্তব্য তারা আদালতে জমা দেবেন।
সাফাত ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তার দুই বন্ধু সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী, গাড়িচালক বিল্লাল। তারা সবাই জামিনে রয়েছেন।
আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে আগামী রোববার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন রেখেছেন বিচারক।
আসামি পক্ষের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন, শাহিনূর ইসলাম অনি, মো. হেমায়েত উদ্দীন মোল্লা বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি প্রমাণ করতে পারছে না।
তারা বলেন, চিকিৎসা সনদে ধর্ষণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আর আসামিদের মধ্যে সাফাত এবং অন্যান্যরা ওই হোটেলের কক্ষে ঢুকেছেন, এমন ছবি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, ট্রাইবুনালের বিশেষ কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, “একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সিসিটিভি ফুটেজ অনুসন্ধান করে কোনো কিছু পাওয়া যায় না, সে কারণে তদন্ত কমকর্তার কোনো দোষ দিতে পারি না। দেখা যাক কী হয়।”
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় মামলাটি হয়।
ওই বছরের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।