নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম নজরুল ইসলামকে (৬১) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দলীয় প্রতিপক্ষ। রবিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে লোহাগড়া-লাহুড়িয়া সড়কের মরিচপাশা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নজরুলকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতানকে (৪৭) লোহাগড়া হাসপাতাল চত্বর থেকে আটক করেছে পুলিশ।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, জিএম নজরুল ইসলাম গ্রামের বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া থেকে লোহাগড়ায় আসছিলেন। পথিমধ্যে জয়পুর ইউনিয়নের মরিচপাশা এলাকায় পৌঁছালে নজরুল ইসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দলীয় প্রতিপক্ষ। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নজরুল ইসলামের শরীর কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তারা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নড়াইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া হাসপাতাল চত্বরে রবিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করেছে উপজেলা বিএনপি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম জানান, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম নজরুল ইসলাম সঙ্গীসহ রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়ি লাহুড়িয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে লোহাগড়া আসছিলেন। লাহুড়িয়া-জয়পুর সড়কের মরিচপাশা মরণমোড় নামক স্থানে পৌঁছালে বিএনপি নেতা মো. টিপু সুলতানের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আহাদুজ্জামান বাটু, বিএনপি নেতা ফরহাদ, মফিজ লিটু, নাজমুলসহ বেশকয়েকজনে গতি রোধ করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম ফেরদৌস রহমান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম আরো বলেন, ‘নজরুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমরা অবিলম্বে হত্যা চেষ্টাকারী বিএনপি নেতা টিপু সুলতান, যুবদল নেতা আহাদুজ্জামান বাটু সহ জড়িতদের দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রেস ব্রিফিংকালে বিএনপি নেতা মো. আবু হায়াত সাবু, মো. আকতার হোসেন, মো. রেজাউল করিম মিন্টু, মো. বিপ্লব রহমান, মিরাজুল ইসলাম ফকির, সাইফুল্লাহ মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযুক্ত এক নেতা বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মিলে ১২ ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য গোপন বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তাই দলের বিদ্রোহীরা হামলা করতে পারে।
অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ‘আমি করোনায় আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। অথচ পুলিশ হাসপাতাল থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. টিপু সুলতানকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’