১০ আগস্ট চুক্তি হয়ে গেছে। কিন্তু লিওনেল মেসিকে মাঠে দেখতে উন্মুখ পিএসজি ভক্ত-সমর্থকদের আশা ফুরাচ্ছে না। তিনি যাওয়ার আগেই প্যারিসিয়ানরা লিগ শুরু করে ফেলেছিল।
এরপর খেলেছে আরও দুই ম্যাচ। ১০ জুলাই কোপা আমেরিকার ফাইনাল জেতা মেসি খেলার মতো ‘ফিটনেস’-এ পৌঁছাতে পারছিলেন না বলে কোচ মউরিসিও পচেত্তিনো নামাতে পারছিলেন না মাঠে। ২৯ আগস্ট রিমসের মাঠে চতুর্থ ম্যাচ। সবার ধারণা সেখানেই হয়তো দেখা যাবে। কিংবদন্তিকে চাক্ষুষ দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ল পিএসজিতে বটেই, প্রতিপক্ষের সমর্থকরা পর্যন্ত।
রবিবারের ম্যাচের ২২ জনের স্কোয়াডে দেখা গেল লিওনেল মেসি নামটি। কিন্তু পচেত্তিনো তাকে সেরা একাদশে রাখলেন না। বারবার টিভি ক্যামেরা বেঞ্চে বসা মেসিকে ফোকাস করছিল। বিরতির পরও একই একাদশ নামল পিএসজির। হঠাৎ আরও কয়েকজনের সঙ্গে টাচলাইনের বাইরে মেসির ওয়ার্মআপ। তাতেই স্তাদ অগাস্ট-দেলাওঁতে উপস্থিত কুড়ি হাজার দর্শকের মাঝে খুশির বন্যা। ৬৫ মিনিটে বন্ধু নেইমারকে পাল্টে পচেত্তিনো নামালেন লিওনেল মেসিকে। স্টেডিয়ামে ড্রাম বেজে উঠল, পতাকা নাড়াতে নাড়াতে মেসি মেসি চিৎকার। সত্যিই তো রিমসের মাঠ, নাকি পার্ক দ্য প্রিন্সেস! রিমসের মানুষ কস্মিনকালেও হয়তো ভাবেননি মেসি এই ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলতে আসবেন। চোখের সামনে মেসিকে ক্লাব ফুটবল খেলতে দেখা যাবে। মেসি প্রথম বল ছুঁলেন, হর্ষধ্বনি। প্রথম পাস দিলেন, আক্রমণে গেলেন, গোলের প্রত্যাশায় তুমুল করতালি। ৩১ মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি। তার আগেই কিলিয়ান এমবাপের দু’গোলে এগিয়ে গেছে পিএসজি। একটি ১৬ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রসে দুর্দান্ত হেডে, আরেকটি ৬৩ মিনিটে আশরাফ হাকিমির অসাধারণ পাসে পোস্টের দু’মিটারের কাছ থেকে রিমসের বুকে ছুরি মারার মতো শটে। মেসি নামার পর এমবাপে ডানে চলে গেছেন, সেখান থেকে একবার পেনাল্টি স্পটের কাছে ভালো একটি বল বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তাতে পা লাগানোর আগেই রিমস ডিফেন্ডাররা আটকে দেন। আরেকবার মেসির অ্যাসিস্টে অল্পের জন্য হ্যাট্রটিক করতে পারেননি এমবাপে।
খালি চোখে হয়তো রবিবার মেসির খেলা তেমন ভালো নাও লাগতে পারে। তবে পরিসংখ্যান ঘাঁটলে বলা যায় ভালোই করেছেন মেসি। টুইটে ফুটবলের পরিসংখ্যানবিষয়ক অ্যাকাউন্ট স্কোয়াকা জানায়, ৩০ মিনিটে মোট ২১টি পাস দিয়েছেন মেসি, এর মধ্যে ২০টি পাস সতীর্থের পায়ে গেছে। ২৬ বার বলে পা ছুঁইয়েছেন। ৩০ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়েছেন তিনবার। ম্যাচ শেষে কোচ পচেত্তিনো বলেন, ‘মেসি এখনো নিজের সেরাটা থেকে দূরে আছে। কিন্তু অনুশীলন খুব ভালো করছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের বিরতির পর আরও ফিট হয়ে যাবে। আমরা তার (মেসি) সেরাটা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
খেলা শেষে মেসির সঙ্গে ছবি তুললেন রিমসের খেলোয়াড়রা। পিএসজির সঙ্গে ম্যাচের আগে রিমসের গোলকিপার রাইকোভিচ বলেছিলেন, গোল হজম না করাটাই হবে অলৌকিক বিষয়। সেই রাইকোভিচ শিশু ছেলেকেও নিয়ে এলেন। মেসি শিশুটিকে কোলে তুলে ছবি তোলেন। মেসির মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদল করতে চাইবেন অনেকেই। বহুবার মেসি জার্সি বদল করেছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে। কিন্তু রবিবার মেসির সঙ্গে জার্সি বদল করতে না পারার আক্ষেপ থাকবে রিমস ডিফেন্ডার অ্যান্ড্রু গ্রাভিয়নের। ‘ও (মেসি) অসাধারণ। গত বছর পর্যন্ত ওকে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে দেখতাম, এখন ওকে আমাদের লিগে পাচ্ছি। ওর সঙ্গে বলের দখলে নামাও তো দারুণ গর্বের। ম্যাচ শেষে ওর কাছে গিয়েছিলাম আমি। আমার ছোট ভাইয়ের জন্য ওর জার্সিটা চেয়েছিলাম। কিন্তু ও আমাকে দিতে পারেনি। দেখা যাক, হয়তো পরেরবার পাব।’
মেসি হয়তো প্রথমবার পিএসজির জার্সিতে মাঠে নামার স্মৃতি ধরে রাখতে জার্সি বদল করেননি। এই প্রথম ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার জার্সি ছাড়া অন্য জার্সিতে দেখা গেল মেসিকে। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর পোর্তোর সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো বার্সেলোনা মূল দলের জার্সি পরেছিলেন মেসি। ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর বার্সেলোনায় মেসির অভিষেক হয়। সেদিন লা লিগাতে এস্পানিওলের সঙ্গে খেলেছিলেন। ২৯ আগস্ট ২০২১ মেসির পিএসজিতে অভিষেক হলো লিগ ওয়ানে। নতুন অধ্যায় শুরু হলো লিওনেল মেসির জীবনে। এলএম১০ থেকে এলএম৩০।