মেহেরপুর আওয়ামী লীগে ভুঁইফোড় সংগঠনের ছড়াছড়ি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো মেহেরপুরেও গড়ে উঠেছে প্রচুর সংগঠন। ভুঁইফোড় সংগঠনগুলো এখনো বহাল তবিয়তে আছে। এরা বিভিন্ন ‘দিবস’ এলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ দিবস সামনে রেখে অর্থ সংগ্রহ এবং কিছু কর্মকান্ড ফেইসবুকের মাধ্যমে দেখানো এদের কাজ। আবার কোনো মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নেতা এলে বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে মিছিল ও শো ডাউন করা এই সংগঠনগুলোর মূল কাজ।

সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজি, সালিসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগও রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার পর এই সংগঠনগুলোর সাইনবোর্ড, অফিস ও মূল দলের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক কর্মকা- এখন অনেকটাই সীমিত।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ২০০৯ সালের পর গঠন করা সংগঠনগুলোকে ভুঁইফোড় সংগঠন বলা হচ্ছে। বর্তমানে মেহেরপুরে ভুঁইফোড় সংগঠনের মধ্যে মেহেরপুরে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, আওয়ামী যুব প্রজন্ম লীগ, নবীন লীগ, তরুণ লীগ, শেখ রাসেল পরিষদ, শেখ রাসেল শিশু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু চেতনা পরিষদসহ বিভিন্ন নামে ১৫-২০টি সংগঠন রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনগুলো শুধু কমিটিতেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশের দলীয় কার্যালয়, সাইনবোর্ড নেই। কিন্তু সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সংগঠনগুলো নিজেদের আওয়ামী লীগের অঙ্গ কিংবা সহযোগী সংগঠন দাবি করে প্রচারণায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে। ২০১৫ সালের পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেহেরপুরে ভুঁইফোড় এই সংগঠনগুলো বিভিন্ন দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালন করে জনসমক্ষে এসেছে। সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেও দেখা গেছে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহিলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ রয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ রয়েছে। এসব সংগঠনের কার্যক্রমের বৈধতা প্রশ্নে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাড়া ভুঁইফোড় সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান করলে আমাদের অতিথি হিসেবে দাওয়াত করে সত্যি। কিন্তু আমরা আজকাল তাদের অনুষ্ঠানের যাই না।’ মেহেরপুরে কোনো ভুঁইফোড় সংগঠন রাখা হবে না বলে জানান তিনি।