বিকেলে সংসদ অধিবেশন, নতুন তিনটিসহ ১৫ বিল নিষ্পত্তির সম্ভাবনা

জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশন বসছে আজ বুধবার বিকেল ৫টায়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হবে। এবারের অধিবেশন চলবে মাত্র চার কার্যদিবস। করোনার কারণে এবারও মানা হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি।

অধিবেশনের শুরুতেই সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেয়া হবে। তারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

এরপর গত ১৩তম সংসদ অধিবেশন শুরুর পর যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি মারা গেছেন তারা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হবে।

চলতি সংসদের সংসদ সদস্য হওয়ায় আলী আশরাফকে নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর শোকপ্রস্তাব গ্রহণ শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করবেন উপস্থিত এমপিরা।

এরপর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে। পরে সংসদের রীতি অনুযায়ী অধিবেশন কিছুক্ষণ মুলতবি করা হবে।

সংসদের সচিব কে এম আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, এরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর। প্রথম পর্বের ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রী উত্তরদানের নির্ধারিত। এরপর  মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর।

বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশ্নোত্তর রয়েছে। তবে স্পিকার চাইলে করোনার প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হতে পারে।

এছাড়াও জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১), জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১)-এর আওতায় প্রাপ্ত নোটিশসমূহ নিষ্পত্তি বিষয়গুলো কার্য তালিকায় রয়েছে।

তবে স্পিকার চাইলে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করতে পারেন। আর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টি স্থগিত করতে পারেন।

এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক “বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অরডিন্যান্স, ২০২১ অধ্যাদেশটি সংসদে উপস্থাপন করবেন।

করোনার কারণে এবার শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠক বসবে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় বসবে অধিবেশন।

এছাড়াও ২ ও ৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় সংসদ অধিবেশন বসবে। করোনার কারণে তাড়াতাড়ি অধিবেশন শেষ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এবারও সংসদে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না সাংবাদিকরা। 

সংসদের যুগ্ম সচিব মো. তারিক মাহমুদ জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অধিবেশনের সময় সাংবাদিকদের পাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বার্থে অধিবেশনের সব কার্যক্রম সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হবে।

সংসদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা পরীক্ষা করে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিবেশনে যেতে হয়। অধিবেশনের কার্যদিবসের মধ্যে বিরতি রাখলে কেউ সংক্রমিত হতে পারেন। এ জন্য শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আসন্ন অধিবেশনটি হবে চলতি বছরের চতুর্থ অধিবেশন। গত ৩ জুলাই শেষ হয়েছিল সংসদের ১৩তম অধিবেশন, যেটি ছিল বাজেট অধিবেশন।

করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত কয়েকটি অধিবেশন বসেছে।

জাতীয় সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এবারের অধিবেশনে নতুন তিনটি বিলসহ ১৫টি বিল নিষ্পত্তি হতে পারে। এর মধ্যে সংসদে উত্থাপিত বিলগুলো হলো—বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন(অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২১, ব্যাংকার বহি. সাক্ষ্য বিল ২০২১, বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালন) বিল ২০২১, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল ২০২১,  Medical Degree (Repeal) Bill 2021, Medical College (Governing bodies) Repeal Bill 2021, বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল ২০২১, জাতীয় শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিল ২০২১, কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২১, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিল ২০২১ এবং গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) বিল ২০২১।

আর সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষায় থাকা বিলগুলো হচ্ছে—বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষ অধিকার) বিল ২০২১, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force) বিল ২০২১, মহাসড়ক বিল ২০২১ এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল বিল-২০২১।