৯৬ বছরে মারা গেলেন গ্রিক সুরকার মিকিস থিওডরাকিস

বিখ্যাত গ্রিক সুরকার মিকিস থিওডরাকিস আর নেই। ৯৬ বছর বয়সে সেন্ট্রাল এথেন্সের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবরটি ঘোষিত হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

সংগীতের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার জন্য আলোচিত ছিলেন মিকিস। তার সুরে বারবার ওঠে এসেছে দ্রোহ ও মানুষের প্রগাঢ় অনুভূতি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হন এ সংগীত ব্যক্তিত্ব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসায় গিয়েছিলেন তিনি।

মিকিসের সাংগীতিক ক্যারিয়ার শুরু ১৭ বছর বয়সে। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল বিস্তৃত। প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের জন্য থিম গান থেকে টিভি-সিনেমায় সংগীত করেছেন তিনি। তবে তার ট্রেডমার্ক শ্রমিকের পোশাক, কর্কশ গলা ও ঢেউ খেলানো চুল গ্রিকদের কাছে বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে আছে। বিশেষ করে যুদ্ধ-পরবর্তী অপশাসনের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর গ্রিকরা মনে রেখেছে। তার সংগীতও নিষিদ্ধ হয়েছিল তখন।

মিকিস থিওডরাকিসের স্মরণে তিন দিন গ্রিসে জাতীয় শোক ঘোষণা হয়েছে। এ সময় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

১৯২৫ সালের ২৯ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় এজিয়ান দ্বীপ চিওসে জন্ম মিকিসের। অল্প বয়সে সংগীত, কবিতা ও রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। গ্রিস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশের পর বামপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ইতালি ও জার্মান দখলকাররা তাকে গ্রেপ্তার করে। স্বাধীনে দেশেও তিনি আটক হন। তাকে পাঠানো হয় দ্বীপান্তরে। ওই সময় অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে।

বৈরী জীবনযাপনের মাঝে নিজেকে সংগীতকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন মিকিস থিওডরাকিস। ১৯৫০ সালে এথেন্স মিউজিক স্কুল থেকে স্নাতক করেন ও ১৯৫৪ সালে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যান প্যারিসে।

তিনি ব্যালে থেকে অপেরা ও চ্যাম্বার মিউজিক নিয়ে কাজ করেছেন। প্রাচীন গ্রিক ট্র্যাজেডি ও ফোকে ছিল তার দক্ষতা। স্পেনের ফেডরিকো গার্সিয়া লোরকাসহ নানান দেশের কবির কবিতায় সুর বসিয়েছেন তিনি। তিন বিভাগে অস্কার-জয়ী ১৯৬৪ সালে ‘জোরবা দ্য গ্রিক’ ছবির সংগীত করেছিলেন মিকিস। এ ছাড়া সেরা বিদেশি ছবি বিভাগে অস্কার জেতা ‘জেড’-এর সংগীতও তার।

মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়েকে রেখে গেছেন মিকিস থিওডরাকিস। তার শেষকৃত্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।