শিল্পকলার মিলনায়তন খোলা সাড়া নেই সংস্কৃতিকর্মীদের

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন খোলা থাকলেও নেই কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন। সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, মিলনায়তন খোলার বিষয়টি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি শিল্পকলা একাডেমি কর্র্তৃপক্ষ। অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমি বলছে, ‘একাডেমির মিলনায়তন বন্ধ হয়েছিল সরকারের দ্বিতীয় ধাপে লকডাউন নির্দেশনার অংশ হিসেবে। ফলে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর থেকেই খোলা রয়েছে একাডেমির মিলনায়তন।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা বিভাগের সেট ডিজাইনার আলী আহমেদ মুকুল বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে লকডাউনের সময় সরকার কর্র্তৃক যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সেই আলোকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ও অন্যান্য স্থাপনা বন্ধ ছিল। জাতীয় নাট্যশালা বন্ধের বিষয়ে সে সময়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ কোনো আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। সরকার কর্র্তৃক লকডাউন তুলে নেওয়ার এবং বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল স্থাপনা ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। যেহেতু একাডেমি বিশেষ কোনো আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাতীয় নাট্যশালা বন্ধ করেনি সেহেতু নতুন করে তা খুলে দেওয়া আলোচ্য বিষয় হতে পারে না। জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সকল স্থাপনা লকডাউন-পরবর্তী সময় থেকে ব্যবহার উপযোগী এবং তা ব্যবহারের জন্য আবেদনকারী সংগঠনের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।’

শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একাডেমির মিলনায়তন ১৯ আগস্ট থেকেই খোলা রয়েছে। কিন্তু কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলনায়তন বরাদ্দ পেতে আবেদনই করেনি তাদের কাছে। একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন বন্ধ হয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লকডাউন সিদ্ধান্তের কারণে। একাডেমি তো আলাদা কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিলনায়তন বন্ধ করেনি। সরকার বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরই মূলত একাডেমির মিলনায়তনও খোলা হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহে মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে কোনো সংগঠন আবেদন করেনি।’

জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তন বরাদ্দ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তনের বরাদ্দ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে-কোনো সংগঠন চাইলে নিয়ম মেনে মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে আবেদন করতে পারবে। সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ পেতে বেশ কয়েকটি সংগঠন আবেদন করেছে। তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে যথাযথ নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হবে।