সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা বিএনপি। কমিটির সদস্য সচিব পদ নিয়ে উপজেলা বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে উপজেলা বিএনপির কমিটি নতুন করে করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা বিএনপি। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি চূড়ান্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা বিএনপি।
দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা আসার পর থেকেই কমিটিতে ঠাঁই পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রচারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবির চালাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং তাদের সমর্থকরা আগে থেকেই দ্বিধাবিভক্ত। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ বিভক্তি আরও প্রকট হয়েছে। উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে কমিটির সদস্য সচিব পদে চাচ্ছেন। এ নিয়ে দুজনের পক্ষ-বিপক্ষের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম আহ্বায়ক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একাধিক নেতা। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব পদ নিয়ে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও তার কর্মী-সমর্থকরা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে সদস্য সচিব পদে চান। আর সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান ও তার সমর্থকরা এ পদে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমীকে চান। সদস্য সচিব পদপ্রত্যাশী হিসেবে এ দুজন ছাড়াও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুল, উপজেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম স্বপন ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান লিটনও রয়েছেন।
সদস্য সচিব পদ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তির কারণে উপজেলা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ। দীর্ঘদিন যাবৎ দল ক্ষমতায় না থাকাসহ মামলা-হামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন সোনারগাঁয়ে যেন একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। নিজেদের কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে কমিটিতে যদি যোগ্য লোক না আসতে পারেন সে ক্ষেত্রে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। আহ্বায়ক কমিটিতে যেন যোগ্য নেতারা স্থান পান সেজন্য গত ২৩ আগস্ট উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘যারা দলের জন্য জীবনবাজি রেখে কাজ করেছেন আমি তাদেরই সমর্থন করি। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে আমার কাছে যোগ্য মনে হয়েছে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমীকে। সুতরাং তার পক্ষে সুপারিশ করেছি। এখন কেন্দ্র এটা বিচার-বিশ্লেষণ করবে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর বলেন, ‘আমি ১৭ বছর যাবৎ সোনারগাঁ বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এখন নতুনরা আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ লোকদেরই কমিটিতে আসা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমি ও দলের অঙ্গ সংগঠন চাচ্ছে সোনারগাঁ যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সদস্য সচিব পদে আসুক। মোশারফ কর্মিবান্ধব নেতা। তাছাড়া রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসহ পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি পৌর মেয়র পদে নির্বাচনও করেছেন। সুতরাং সব মিলে তিনিই যোগ্য প্রার্থী।’