তালেবান শাসনের অধীনে রাজনৈতিক অধিকার চেয়ে কাবুলের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নার্গিস সাদ্দাত নামের এক নারী অধিকার কর্মীকে পিটিয়েছে তালেবান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তার চেহারা থেকে রক্ত ঝরছে।
নারী অধিকার কর্মীদের নেতৃত্বে শনিবার কাবুলে নারীদের বিক্ষোভ চলাকালীন তালেবানরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন নার্গিস সাদ্দাত। আফগানিস্তানের টোলো নিউজের খবরে বলা হয়, তালেবানরা মিছিলকারীদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যেতে বাধা দেয় এবং তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
দ্য খামা প্রেস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী কর্মী এবং বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের (এআরজি) গেটের সামনে বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের সদস্যরা তাদের অনুমতি দেয়নি।
সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিও ক্লিপ অনুসারে, তালিবানরা ফাঁকা গুলি চালিয়ে নারীদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তালেবানরা নারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায় এবং সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে।
শনিবারের বিক্ষোভ ছিল আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নারীদের চতুর্থ বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে যথাক্রমে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশ এবং আফগানিস্তানের রাজধানীতে তিনটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কাবুলের নারীরা নতুন সরকারে তাদের অধিকার এবং প্রতিনিধিত্বের দাবিতে শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করল।
বিক্ষোভকারীরা জানান, নতুন সরকারে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হওয়া উচিত। তারা নারিদের সমান অধিকার ও রাজনৈতিক জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিশ্চয়তা দাবি করছেন।
বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও লাইভ-স্ট্রিমে প্রকাশ করা হয়। সেখানে নারীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকারের স্বীকৃতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালেবানদের ‘অতি-রক্ষণশীল’ অতীত সময়কে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ধারণা তালেবানদের এই নতুন শাসনামলেও আফগান নারীদের ভাগ্যে কঠিন দুর্দশা নেমে আসতে পারে। শরিয়া আইনের কঠোর অবস্থান থেকে যদি তালেবানরা সরে না আসে তবে আবারও নারীদের ঘরবন্দী হতে হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তালেবানরা নারীদের কাজ করার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। আগস্টের শেষে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, নারীরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন তবে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে।