না.গঞ্জ শহরে অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি

নারায়ণগঞ্জ শহরে বেড়েই চলেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। দেড় কিলোমিটার আয়তনের শহরে এসব স্ট্যান্ডের কারণে বাড়ছে যানজট। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চলছে স্ট্যান্ডের কার্যক্রম। এখান থেকে চাঁদা আদায়ে গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে শ্রমিক সংগঠন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। শহরে কোনো অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না, উচ্ছেদ করা হবে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি টিআইদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশপথ চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি অবৈধ স্ট্যান্ড। চাষাঢ়া চত্বর, ডায়মন্ড চত্বর, ম-লপাড়া মোড় ও আশপাশের সড়কে অবৈধভাবে বাস, ট্রাক, লেগুনা, প্রাইভেট কার, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকায় যানজট লেগেই থাকে। এসব স্ট্যান্ড কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। এখান থেকে দিনে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাব, মোজাফফর তেলের পাম্প, শহীদ মিনার, প্রান্তিক তেলের পাম্প, খাজা মার্কেট, হকার্স মার্কেটের সামনে, সরকারি মহিলা কলেজ, ২নং রেলগেট, ডায়মন্ড হল চত্বর, ফজর আলী ট্রেড সেন্টার, মর্গ্যান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে, নবাব সলিমুল্লাহ রোড, ১নং রেলগেট, মেট্রো হলের মোড়, খানপুর, কালীর বাজার, ম-লপাড়া, জিমখানা মোড়, নিতাইগঞ্জ মোড়সহ শহরের ভেতরে ও বাইরে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব স্ট্যান্ডের গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে মূল সড়কের ওপর। ফলে ব্যস্ততম এসব এলাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এর মধ্যে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সবচেয়ে বেশি যানজট লেগে থাকে।

এসব অবৈধ স্ট্যান্ড ঘিরে নামে-বেনামে শ্রমিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। প্রতিটি বাস, ট্রাক, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করছে তারা। চাঁদা না দিলে এসব গাড়ির মালিক ও চালককে হয়রানি করা হয়। চাঁদা আদায়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকাই কেউই প্রতিবাদ করতে সাহস করে না।

১নং রেলগেট এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হারুন মিয়া বলেন, ‘গাড়ি রাখতে স্ট্যান্ড দরকার। কোথাও জায়গা না থাকায় সড়কই বেছে নিতে হচ্ছে। যানজট হলেও আমরা নিরুপায়। তা ছাড়া আমরা তো ফাও ফাও গাড়ি রাখি না। প্রতিদিনই স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখার জন্য চাঁদা দিচ্ছি। এক দিন চাঁদা না দিলে সিরিয়াল বাতিল করে। স্ট্যান্ডে গাড়ি ভিড়তে দেয় না।’