চাঁদপুরে দুর্ঘটনায় আহত বাস চালকের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিকরা। সোমবার ভোর থেকে ঢাকাসহ সকল স্থানে জেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হুট করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানায়, রবিবার চাঁদপুর সদরের চাঁদখার বাজার এলাকায় পদ্মা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে এক শিশু নিহত হয় এবং আহত হয় বাসের ১০ যাত্রী। বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় বাসের চালক মিজান মোল্লা। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা কোনোপ্রকার সহযোগিতা না করায় বিনা চিকিৎসায় রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
পদ্মা বাসের চালক মমিন বেপারী বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নে পরিবহন ও মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের কাজ করার কথা থাকলেও কোনো বিপদে তাদেরকে আমরা পাশে পাই না। আমাদের এক বাস চালক ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। কোনো নেতাই সহায়তা দূরে থাক তার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। অথচ শ্রমিকদের কল্যাণে প্রতি বাস থেকে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া হয়।
আরেক বাস চালক মো. ইসহাক বলেন, এই নেতারা পৌর বাস টার্মিনালের কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন করেনি। তারা আমাদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে প্রতিনিয়ত। মিজানের মতো অনেকেই বিনা চিকিৎসা এবং সহযোগিতার অভাবে মারা গেছে।
আমরা এই পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নিলে এই বিক্ষোভ চলবে।
দুপুর ১টা পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুরসহ কোনো রুটে বাস ছেড়ে না গেলেও ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে বেশ কয়েকটি বাস চাঁদপুরে আসতে দেখা গেছে।
এদিকে বিনা ঘোষণায় বাস ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। পরিবহন চলাচল না করায় অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
কুমিল্লাগামী যাত্রী ফিরোজ আলম বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় গন্তব্যে যেতে পারছি না। এভাবে আমাদের বিপদে ফেলার কোনো মানে হয় না। ধর্মঘট ছাড়ারও কোনো লক্ষণ দেখছি না।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, বাস দুর্ঘটনায় এক চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ ও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।
তাদের অভিযোগ বিনা চিকিৎসা ও সহযোগিতার অভাবে চালক মিজান মারা গেছে।
আমরা পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে দ্রুত এটি সমাধান করা যায়। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাসস্টেশন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।