টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের পাকিস্তান দলে মোহাম্মদ হাফিজ জায়গা পেলেও সুযোগ পাননি দুই সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদ। দলে একমাত্র চমক ২৩ বছর বয়সী হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান আজম খান। আর তাকে দলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছেন হেড কোচ মিসবাহ-উল হক ও বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনিস। তাদের জায়গায় সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাক ও সাবেক পেসার-অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাককে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে দুবাইয়ের ২৪ অক্টোবর ম্যাচ দিয়ে। এই গ্রুপে আরও থাকছে নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের কিপিং করবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা হয়নি ফখর জামানের। তিনি থাকবেন ‘রিজার্ভ’ ওপেনার হিসেবে। বাদ পড়েছেন ওপেনার শারজিল খান। অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফের না থাকাটাও অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। ফখর দেশের হয়ে ৫৩ টি-টোয়েন্টিতে ১৩৬.৩১ স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন। ২১ টি-টোয়েন্টিতে শারজিলের স্ট্রাইকরেট ১৩২.৬৮। সাবেক ক্রিকেটার মঈন খানপুত্র আজম খান ৩ ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে তার স্ট্রাইকরেট প্রায় ১৫০।
পাকিস্তানের পেস আক্রমণ সামলাবেন হাসান আলি, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ। স্পিনে ভরসা দেবেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। রিজার্ভ বেঞ্চে ফখরের সঙ্গে আছেন শাহনাওয়াজ দাহানি ও লেগ স্পিনার উসমান কাদির। দল ঘোষণার পর পিসিবির প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেছেন, ‘স্কোয়াড নির্বাচন করতে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যাদের খাপ খায় তাদের রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের দলটা ভারসাম্যপূর্ণ।’
মিসবাহ-ওয়াকারের ব্যাখ্যা : ২০১৯ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান কোচ এবং বোলিং কোচ হয়েছিলেন মিসবাহ ও ওয়াকার। অবশ্য মিসবাহ শুধু প্রধান নির্বাচকই ছিলেন না, হেড কোচের দায়িত্বও পালন করতেন। বিতর্ক শুরু হলে পরে তিনি প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দেন। চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাকি থাকতে এবার প্রধান কোচের পদ থেকেও সরে দাঁড়ালেন। একই দিন বোলিং কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ওয়াকার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে গতকালই দুজন পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে মিসবাহ লেখেন, ‘জ্যামাইকার কোয়ারেন্টাইনে থেকে আমি আমার ২৪ মাসের সময়টা বিশ্লেষণ করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে সূচি, তাতে বুঝতে পারছি, আমাকে একটা বড় সময় পরিবারের বাইরে বায়োবাবল পরিবেশে কাটাতে হবে। আর সে কারণেই আমি পাকিস্তান দলের হেড কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি হয়ত জানতেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে পদত্যাগ করায় প্রশ্ন উঠবে, তাই মিসবাহ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি পদত্যাগের সময়টা সঠিক হচ্ছে না। তবে আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আমি সঠিক মানসিক অবস্থায় আছি। সময় এসেছে নতুন কাউকে আমার দায়িত্বটা বুঝে নেওয়ার। আশা করি তারা দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ ওয়াকার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘মিসবাহ আমার সঙ্গে তার ভাবনা বিনিময় করেছে। তার কথা শুনে মনে হয়েছে আমারও পদত্যাগ করা উচিত। কারণ, গত ২৪ মাস ধরে আমরা কাজ করেছি জুটি হিসেবে। তাই মিসবাহ পদত্যাগের পর আমারও পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে হয়েছে। পাকিস্তান দল ও দলের তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য খুব গৌরব আর সন্তুষ্টির ব্যাপার ছিল। আমি মনে করি যাদের নিয়ে কাজ করেছি, তাদের সবারই খেলায় উন্নতি হয়েছে। করোনার কারণে গত ১৬ মাস আমরা জৈব সুরক্ষা বলয়ের যে অভিজ্ঞতা নিয়েছি, সেটা একেবারেই নজিরবিহীন। এমন কিছু কখনই আমরা আমাদের খেলোয়াড়ি জীবনে দেখিনি।’