কেওড়া বাগানের চারপাশে বাঁধ গোড়ায় পানি জমে মরছে গাছ

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটেরখীল এলাকার উপকূলে বেড়িবাঁধ লাগোয়া ছোট কুমিরা খালের দক্ষিণ পাশের প্রায় এক একর জায়গায় থাকা প্রায় ২০০ কেওড়াগাছ মরে যাচ্ছে। চারদিকে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রেখে গাছগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে। ভাটেরখীল বন বিভাগের বিট অফিসারের সহায়তায় স্থানীয় মোহাম্মদ টিটু নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি কেওড়া বাগানের চারদিকে বাঁধ দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, বাগানের বড় বড় সব কেওড়াগাছের গোড়া পানিতে ডুবে আছে। ফলে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে গাছগুলো। কিছু গাছ ইতিমধ্যে মারা গেছে। আরও কিছু গাছের কচি পাতা লালচে রং ধারণ করেছে। স্থানীয়রা জানায়, মাসখানেক আগে বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের মো. টিটু এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে কেওড়া বাগানের চারপাশে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি গাছের গোড়ায় জমে থাকছে। বর্তমানে বাগানের সব গাছের গোড়ায় প্রায় তিন ফুট পানি জমে আছে।

এ ব্যাপারে গতকাল মো. টিটুর মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিট অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, এই কেওড়া বাগান পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

অন্যদিকে সীতাকুন্ড উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী রেঞ্জ অফিসার খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, পাউবোর জায়গা হলেও সরকারি গাছ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শিগগিরই বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সীতাকুন্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, ভূমি আমাদের হলেও বৃক্ষ সাধারণত বন বিভাগের অধীনে থাকে। তবুও কেউ যদি বাঁধ দিয়ে থাকে খোঁজ নিয়ে তা অপসারণ করে গাছ বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।