কুমিল্লার সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর গ্রামের মীর বাড়িতে ঘরে ঢুকে দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহিম। তিনি জানান, পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক খালাতো ভাই জহিরুল ইসলাম সানি (১৯) ও তার বন্ধু মেহেদী হাসান তুহিনের (১৮) সহযোগিতায় নিজ শ্বশুর-শাশুড়িকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজায় পুত্রবধূ নাজমুন নাহার শিউলি (২৫)। এর আগে গত রবিবার রাতে নিজ ঘর থেকে বিল্লাল হোসেন (৭৫) ও সফুরা খাতুন (৫৫) দম্পতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার রহিম আরও জানান, পারিবারিক নানা কারণে শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর ক্ষুব্ধ ছিল শিউলি। প্রবাসী স্বামী আমান উল্লাহকে ফোনে পারিবারিক সমস্যার কথা বললেও তিনি ততটা গুরুত্ব দিতেন না। ফলে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেন শিউলি। পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক গত রবিবার রাতে খালাতো ভাই ও তার বন্ধুরা বাড়িতে এসে শিউলির ওড়না দিয়ে প্রথমে তার শ্বশুর-শাশুড়ির মুখ চেপে ধরে। এরপর সহযোগীরা তার শাশুড়ি সফুরা খাতুনের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং শিউলি কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একইভাবে শ্বশুর বিল্লালকেও হত্যা করা হয়। এরপর তারা (সহযোগীরা) শিউলির হাত-পা বেঁধে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ঘরে ডাকাত প্রবেশ করে শ্বশুর-শাশুড়িকে হত্যা করেছে বলে চিৎকার শুরু করে শিউলি। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিউলিকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে খালাতো ভাই ও তার বন্ধুর সহযোগিতায় শ্বশুর-শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করে শিউলি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সানি ও তুহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।