তালেবানের নতুন সরকারে দায়িত্ব পাওয়া সকল ব্যক্তি পুরুষ হওয়ায় এবং তাদের কারও কারও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ খবর দেওয়া হয়েছে।
তালেবানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এখনো এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত।
মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে তালেবানের ঘোষিত তালিকায় কেবলমাত্র তালেবান সদস্য বা তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরই নাম আছে এবং কোন নারী নেই। এদের অনেকের অতীত রেকর্ড নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকা তালেবানকে তাদের কাজ দিয়ে বিচার করবে, কথা দিয়ে নয়।
অথচ এর আগে তালেবান বারবার বলেছিল তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে চায়। কিন্তু নতুন সরকারে তাদের এবং তাদের মিত্রদের প্রতিনিধিরাই স্থান পেয়েছেন।
ওদিকে, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার আদেশ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা বলেন, আমি দেশবাসীকে নিশ্চিত করছি যে, নতুন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দেশে ইসলামি শাসন ও শরিয়া আইন অনুসরণ করার ব্যাপারে কঠোরভাবে কাজ করবেন। নতুন নেতৃত্ব ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন’ নিশ্চিত করবে। লোকজনের দেশত্যাগ করার চেষ্টা করা উচিত হবে না।
এ ছাড়া আখুন্দজাদা বলেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামিক আমিরাতের কোনো সমস্যা নেই। আপনারা সবাই এ শাসনব্যবস্থা ও আফগানিস্তানকে শক্তিশালী করতে অংশগ্রহণ করবেন এবং এভাবে আমরা আমাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠিত করব।
দীর্ঘ ২০ বছর পর গত ৩১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করল।