মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে সব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক

রাজশাহীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি গত দুই বছরে। এখানকার অনুমোদিত সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরই লাইসেন্স এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে, সেগুলোর লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ তো আছেই, আবার নগরীর অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স ছাড়াই মাসের পর মাস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই চলছে পুরো জেলার ক্লিনিক ও প্যাথলজির ব্যবসা। তবে এখানকার নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনুমোদন (লাইসেন্স) নবায়নের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করলেও তাদের পক্ষ থেকে সাড়া মিলছে না।

এদিকে করোনাকালে রাজশাহীর ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো তদারকিও নেই। আর এই সুযোগে ক্লিনিকগুলোয় চলছে অপচিকিৎসা। রাজশাহীর বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে অহরহ অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠছে। অবহেলায় রোগী মৃত্যুরও অভিযোগও পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকেই নেই সুচিকিৎসার পরিবেশ। অনেকেই কোনোমতে ভবন ভাড়া নিয়ে ঘিঞ্জি পরিবেশে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা।

অন্যদিকে সারা দেশে বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হলেও রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না থাকার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের কথা থাকলেও দুই বছর ধরে তা করা হয়নি। এ জন্য নবায়ন আটকে রয়েছে। এ কারণে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাজশাহী ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, রাজশাহী নগরীতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোট সংখ্যা ১২০। এর মধ্যে ক্লিনিক ৩০টি, বাকি ৯০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সংগঠনটির রাজশাহী জেলার সভাপতি আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজশাহীর দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন নেই। ৩-৪ বছর থেকে এটি নেই। কোনো কোনোটির ১-২ বছর থেকে নেই। তদবির করেও পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণেই লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি ঝুলে আছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের কথা থাকলেও দুই বছর ধরে তা করা হয়নি। এ জন্য নবায়ন আটকে রয়েছে। সে কারণে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। রাজশাহীর প্রথম সারির অন্তত ১৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের লাইসেন্স নবায়ন না থাকার কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি। অধিকাংশ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে, তবে নবায়ন নেই। তারা কাগজপত্র জমা দিয়েছে। আমরা পরিদর্শন করে কাগজ জমা দিলেই তারা লাইসেন্স পেয়ে যাবে। আমাদের কাছে পরিদর্শনের জন্য ৬০-৭০টি আবেদন জমা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলাগুলোর হয়ে গেছে। মহানগরেও ৩৩টি পরিদর্শন হয়ে গেছে। চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত এগুলোর পরিদর্শন শেষ করা যায়।’