সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরে আসার আহবান তালেবান প্রধানমন্ত্রীর

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়েছিলেন দেশটির মার্কিন সমর্থিত সাবেক সরকারের অনেক কর্মকর্তা। তালেবানরা নতুন সরকার গঠনের পর তাঁদের আবার দেশে ফেরার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তালেবানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ এই আহবান জানান। বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সঙ্গে এক আলাপচারিতার সময় এমন আহ্বান জানান তিনি।

আল-জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মোল্লা হাসান আখুন্দ বলেন, তালেবান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আফগানিস্তানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কূটনীতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।

আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থাকে ‘ঐতিহাসিক’ মন্তব্য করে মোল্লা আখুন্দ বলেন, ‘এই অবস্থায় আসতে আফগানিস্তানকে প্রচুর অর্থ ও রক্ত ঝরাতে হয়েছে। তবে এবার আফগানদের রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড ও অবমাননার দিন শেষ হয়েছে।’

গত ২০ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদেশগুলোকে যেসব আফগান নাগরিক সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল তালেবান। গতকালের আলাপচারিতায় সেই প্রতিশ্রুতির কথা আবার সামনে আনেন মোল্লা আখুন্দ। তিনি জানান, আগের কর্মকাণ্ডের জন্য কারও ক্ষতি করেনি তালেবান। কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, এমন প্রমাণ কেউ ভবিষ্যতে দিতে পারবে না।

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর থেকেই সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের কথা বলে আসছিল তালেবান। কিন্তু মঙ্গলবার ঘোষিত সরকারে তাদের ওই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই সরকার গঠন করা হয়েছে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত তালেবানের বিভিন্ন নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাদের নিয়ে। সরকারে কোনো নারীও রাখা হয়নি। মন্ত্রিসভায় দেশটির ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর কোনো প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে তালেবান কি আসলেই বদলে গেছে নাকি তারা ফের অতীতের রুপেই আবির্ভুত হবে?