চতুর্থ অধ্যায় : আমাদের জীবনে প্রজনন স্বাস্থ্য
সাধারণ প্রশ্ন
১. গর্ভধারণ কী? অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করো।
ভূমিকা : শরীরের যেসব অঙ্গ সন্তান জন্মদানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সেসব অঙ্গের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়কে প্রজনন স্বাস্থ্য বলে। প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি অংশ হলো গর্ভধারণ।
গর্ভধারণ : গর্ভধারণ হচ্ছে একটি মেয়ের শরীরের বিশেষ পরিবর্তন। সন্তান গর্ভে এলেই শুধু শরীরের এই বিশেষ পরিবর্তন ঘটে। যৌনমিলনের সময় পুরুষের শুক্রাণু যখন মেয়েদের ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়, তখনই মেয়ের গর্ভে সন্তান আসে অর্থাৎ সে গর্ভধারণ করে। গর্ভধারণের প্রথম কয়েক মাসে মেয়েদের শরীরে কিছু অস্বস্তিকর লক্ষণ দেখা যায়। যেমন
১. মাসিক বন্ধ হওয়া।
২. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৩. মাথা ঘোরা।
৪. বারবার প্রস্রাব হওয়া।
৫. স্তন ভারী ও বড় হওয়া।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের পরিণতি
১. অপরিণত বয়সে মা হওয়ার মতো শারীরিক পূর্ণতা ও মানসিক পরিপক্বতা থাকে না।
২. কম বয়সে বিয়ে হলে যে মেয়েরা মা হয় তারা নানা রকম জটিলতায় ভোগে, কারণ এ বয়সে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন সম্পূর্ণ হয় না।
৩. অপরিণত বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ ও জন্মদান সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারণা থাকে না।
৪. অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ করলে শুধু যে মেয়েটিই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়, সদ্যোজাত শিশুটির জীবনও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৫. পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপসংহার : ওপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় উন্নতির স্বার্থে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ রোধ করতে হবে।
২. ‘মা-বাবার সহযোগিতাই পারে সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা সমাধান করতে’ মতামত দাও।
উত্তর : জীবন চক্রের যে পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা যৌন ক্ষমতা অর্জন করে, সেই পর্যায় বা কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
বয়ঃসন্ধিকাল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বয়ঃসন্ধিকালে যে দৈহিক পরিবর্তন সংঘটিত হয় তা ছেলেমেয়েদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। সন্তানের মধ্যে সহনশীলতার অভাব দেখা দেয়। এ সময় বাবা-মাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে থাকতে হয়। বয়ঃসন্ধির পরিবর্তনকে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বাবা-মায়ের থাকতে হবে। শৈশবের শেষপর্যায়ের পরবর্তী সময়ে বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন ছেলেমেয়েদের অনেকটা অবাক করে দেয়। এজন্য অনেকে লজ্জাবোধ করে বা ভয় পায়। এরূপ পরিবর্তনের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়। এ বয়সের দৈহিক পরিবর্তন সম্পর্কে বোঝার সামান্য ক্ষমতাও ছেলেমেয়েদের থাকে না। বয়ঃসন্ধিকালে দৈহিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলেমেয়েদের কী করণীয়, মা-বাবার কী দায়িত্ব ও কর্তব্য হতে পারে তা জানা থাকা প্রয়োজন। বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের যেসব সমস্যা দেখা দেয় তা সমাধানের জন্য মা-বাবাকেই এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং সন্তানদের সাহস জোগাতে হবে এবং আচার-আচরণে বোঝাতে হবে এ সময় ঘটা শারীরিক পরিবর্তন ক্ষতিকর নয়। এসব পরিবর্তন স্বাভাবিক এবং তা প্রত্যেকের জীবনেই কাম্য। কোনো মানুষই এসব পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে নয়। বাবা-মাই সন্তানের সর্বোত্তম বন্ধু। বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন নিয়ে এক ধরনের জড়তা কাজ করে, যা অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দেয়। সন্তানের মঙ্গলের জন্য সব জড়তার ঊর্ধ্বে উঠে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই শ্রেয়। মা-বাবার সহযোগিতাই সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা সমাধান দিতে সক্ষম।