ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানলেন নাদির শাহ। সাবেক এই ক্রিকেটার ও আইসিসির প্যানেল আম্পায়ার দীর্ঘদিন ফুসফুস ক্যানসারে ভুগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৫৭।
প্রায় দুই বছরের মতো ক্যানসারের অসুস্থতায় ভুগছিলেন নাদির শাহ। ২০১৯ সালে জাতীয় লিগের ম্যাচ পরিচালনা করার সময় মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। শেষদিকে কারও সাহায্য ছাড়া চলাটাও কষ্ট হয়ে পড়েছিল তার। পরিস্থিতি খারাপ হলে ২৯ আগস্ট রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নাদির শাহকে। দু’দিন আগে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।
সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশের সব সময়ের সেরা পেসারদের একজন জাহাঙ্গীর শাহ বাদশার ছোট ভাই নাদির শাহ খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন লেগ স্পিনার। সঙ্গে ভালো ব্যাটিংও করতেন। ঢাকা লিগে দুই দশকের বেশি সময় খেলেছেন আবাহনী, মোহামেডান, বিমান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সূর্যতরুণ, আজাদ বয়েজ, ধানম-ি ও কলাবাগান ক্লাবের হয়ে।
পরে আম্পায়ারিং শুরু করে একসময় হয়ে ওঠেন দেশের এক নম্বর আম্পায়ার। ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিং করে ২০০৬ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক হয় তার। সব মিলিয়ে ৪০টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তিনি পরিচালনা করেন মাঠে দাঁড়িয়ে। টিভি আম্পায়ার হিসেবে কাজ করেন ৬ টেস্ট ও ২৩ ওয়ানডেতে। এছাড়া ৭৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ১২৭টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন তিনি। শেষবার তাকে আম্পায়ার হিসেবে মাঠে দেখা গেছে ২০১৯ সালের অক্টোবরে, মিরপুরে জাতীয় লিগের ম্যাচে। এরপর থেকে অসুস্থতার কারণে মাঠে আর সেভাবে দেখা যায়নি তাকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট আঙিনায় নাদির শাহ ছিলেন প্রিয় এক চরিত্র। সব সময় হাসি-মজায় মাতিয়ে রাখতেন বলে সবার সঙ্গেই তার ছিল দারুণ সখ্য। তার বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার ও সংগঠকের অনেকেই।
গতকাল ম্যাচের শুরুতে তার মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।