দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন উপাচার্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোয়াদুজ্জামান সোয়াদ
দেশ রূপান্তর : উপাচার্য হিসেবে আপনার লক্ষ্য কী?
অধ্যাপক কামরুজ্জামান : ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে আমার লক্ষ্য হচ্ছে মহান জাতীয় সংসদে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং অন্যান্য বিধিবিধানকে সমুন্নত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকম-লী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবার সার্বিক সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার উৎকর্ষের কেন্দ্রে পরিণত করা।
দেশ রূপান্তর : বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৩ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে তবে উল্লেখযোগ্য মৌলিক গবেষণা তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। আপনার পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক কামরুজ্জামান : নিঃসন্দেহে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মূল কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকম-লী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়নে আমি শিগগিরই একটি অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল ল্যাব তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় কাক্সিক্ষত সফলতা আনয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে গবেষণা টিম তৈরি করার ক্ষেত্রে শিক্ষকম-লীকে উৎসাহ প্রদান করব, গবেষকদের গবেষণার স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
দেশ রূপান্তর : আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও উন্নত ল্যাবরেটরি সংকট চরমে। শিক্ষক স্বল্পতা তো আছেই। এসব নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
অধ্যাপক কামরুজ্জামান : আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ সংকট, পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সংকট, আবাসন সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা তো রয়েছেই। আমি আশা করছি আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এসব সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে।
দেশ রূপান্তর : বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি শিক্ষকদের দলাদলির মধ্যে শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছে। জ্ঞানচর্চায় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ছাপিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?
অধ্যাপক কামরুজ্জামান : বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষকমণ্ডলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নানাবিধ গঠনমূলক কো-কারিকুলাম কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার দ্বার উন্মুক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে তাদের এ সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনায় সংযুক্ত থেকে উৎসাহিত করবেন এটিই স্বাভাবিক। শিক্ষকমণ্ডলীদের মাঝে যদি অনৈক্য থাকে, বিভক্তি থাকে তাহলে সেই বিভক্তির প্রভাব শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীর ওপর পড়তে পারে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়।