হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষবর্ষের পরীক্ষা। আবাসিক হল বন্ধ রেখে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরীক্ষার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেস ও বিভিন্ন বাড়ি ভাড়া করে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। স্নাতক-স্নাতকোত্তর ছাড়াও একাধিক বিভাগের বিভিন্ন সেশনের পরীক্ষা নেওয়ায় মেস ও বাসার সংকটে পড়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসসংলগ্ন শেখপাড়া ও শান্তিডাঙ্গা এলাকার মেসগুলো নিয়ন্ত্রণে কোনো মালিক সমিতি নেই। হল বন্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেস ও বাসার মালিকরা ইচ্ছেমতে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন। বাধ্য হয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। মেসে গাদাগাদি অবস্থানের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের পর ২০টি বিভাগ পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে সময়সূচি প্রকাশ করে। এরপর অন্তত ৪ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসসংলগ্ন মেস ও বাসায় ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শতাধিক মেস ও ফ্ল্যাট বাসা রয়েছে। অনেকে এখানে জায়গা না পেয়ে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগে ছেলেদের মেসে দুই সিটের এক রুমের জন্য ১ হাজার টাকা দিতে হতো। এখন সেটি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এক সিটের কক্ষের জন্য গুনতে হয়েছে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ছাত্রীদের থেকেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের নেমে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী হেমায়েত কবীর বলেন, ‘হল বন্ধ থাকায় ৫০০ টাকার সিটে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাপ থাকায় মেস মালিকের সঙ্গে কথাই বলা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা কষ্টে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদাসীন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষবর্ষের ছাত্রী ফারহানা বলেন, ‘হুট করে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা দেওয়ায় মেস নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। সিট প্রতি দেড় হাজার টাকায় শেখপাড়ার একটি মেসে উঠেছি। এখন এ অঞ্চলের কোনো মেস খালি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে মেয়েদের কুষ্টিয়া অথবা ঝিনাইদহ শহরে মেস ভাড়া নিতে হচ্ছে।’

তবে একাধিক মেস মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করেন।

হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য হলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত দিলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হলগুলো শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের বৈঠক হবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত শিক্ষার্থীর পক্ষে মেসে থেকে পরীক্ষা দেওয়া সত্যিই কঠিন। তবে মেসগুলোতে যেসব ঝামেলা হচ্ছে, তার সমাধান আমাদের হাতে নেই। হল খুলে দিলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।’