গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সরিয়ে নিয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত বিমান হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় সৌদি আরব বেশ বিপাকে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অদূরে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ এমন এক সময়ে আসল, যখন উপসাগরীয় আরব দেশগুলি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের বিশৃঙ্খল প্রত্যাহার এবং কাবুলের অবরুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের শেষ মুহূর্তের উদ্ধার অভিযান ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দেখছিল।
হাজার হাজার আমেরিকান সেনা ইরানকে প্রতিহত করার জন্য আরব উপদ্বীপজুড়ে এখনো অবস্থান করছে। তথাপি, সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় আরব দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। কারণ ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার খুবই দরকার ছিল।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ভেঙে পড়া পরমাণু চুক্তি নিয়ে ভিয়েনার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছ এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে নতুন করে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের আশঙ্কাও বেড়ে চলেছে।
রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস এ বেকার থার্ড ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’র গবেষণা ফেলো ক্রিস্টিয়ান উলরিচসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর এখন খুবই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে মার্কিনিরা আসলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি ততটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, যেমনটি সেই অঞ্চলের ক্ষমতায় থাকা কর্তৃপক্ষের অনেকেই মনে করত’।
‘সৌদি আরব এখন ওবামা, ট্রাম্প এবং বাইডেন, পরপর তিনজন প্রেসিডেন্টকেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে দেখছে যেসব সিদ্ধান্ত তাদেরকে একলা ফেলে চলে যাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়’।