টাইসন ফিউরি, ব্রিটিশ এই বক্সার বিশ্ব ক্রীড়াজ্ঞনে সাড়া জাগানো কেউ নন। তবে নিজেকে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলির পরেই স্থান দিচ্ছেন। ফিউরি বেড়ে উঠেছেন হৃদয়ে মোহাম্মদ আলির দর্শন নিয়ে, তাকেই মেনেছেন নিজের আইকন। ফিউরির খেয়াল যেভাবে রিংয়ে তিনি নড়াচড়া করেন সেটা অনেকটাই বক্সিং গ্রেটের সঙ্গে মিলে যায়। ফ্লয়েড প্যাটারসন ও মোহাম্মদ আলির পর তৃতীয় হেভিওয়েট হিসেবে দুবার রিং ম্যাগাজিন শিরোপা জিতেছেন ফিউরি। ২০২০ এ ইএসপিএন কর্র্তৃক বিশ্বের সেরা অ্যাকটিভ হেভিওয়েট বক্সার নির্বাচিত হন। ইংল্যান্ডে নিয়মিত ভ্রমণ করা এক আইরিশ পরিবারে জন্ম নেওয়া ফিউরির নিজেকে নিয়ে সেরার ভাবনাটা হয়তো খুব একটা ভুল নয়। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড দুই দলের হয়েই খেলা এই বক্সার ২০০৮ থেকে ক্যারিয়ারে মোট ৩১ লড়াইয়ে কোনোটিতেই হারেননি। ৩০ জয়ের পাশাপাশি ১টি মাত্র ড্র আর ২১ বার জিতেছেন নকআউটে। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি গ্যারি নেভিলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজেকে নিয়ে নিজের ভাবনা বলছিলেন ফিউরি।
যেহেতু তিনি একজন বক্সার, ফিউরিকে প্রথম প্রশ্নটাই করা হলো মোহাম্মদ আলিকে নিয়ে। উত্তরে জানালেন ছোটবেলা থেকেই আমেরিকান গ্রেটকে অনুসরণ করে আসছেন, ‘মোহাম্মদ আলি, আমি তাকে সবসময়ই দেখতাম এবং তিনি কী কী করতেন তা অনুসরণ করতাম। তার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা অসম্ভব। তবুও বলব এই মুহূর্তে তাকে বাদ দিলে এখনো খেলাদের মধ্যে আমিই সেরা। আমি বিশ্বাস করি আমি খুব আলাদা। কারণ আমি কিন্তু আর সব বক্সারের মতো সুঠাম দেহের নই। আমার শরীরটা ভারী। আমার ওজন যা তার চেয়ে অনেক কম ওজনের ছিলেন মোহাম্মদ আলি। তবুও আমি বিশ্বাস করি মোহাম্মদ আলির মতোই আমি রিংয়ে নড়াচড়া করি। এই ভারী শরীর নিয়েও। এজন্যই আমি তার পরে নিজেকে রাখতে চাই।’
বিশ্বের অনেক শহরে ঘুরলেও ম্যানচেস্টারকে হৃদয়ে লালন করেন ফিউরি। কারণ এটি তার জন্মশহর। এখানেই বেড়ে উঠেছেন। এই শহরেই মোহাম্মদ আলিকে দেখে বক্সার হওয়ার স্বপ্ন লালন করেন এবং বক্সিং দীক্ষাটাও নেন। জীবনে কোনো একসময় এখানেই থামতে চান। এছাড়া ১৪ বছর আগে চাচার কাছ থেকে পাওয়া একটি বাইবেলকে নিজের সেরা রতœ বলছেন ফিউরি। ১৪ বছর ধরেই এই বইটিকে নিজের শোবার খাটের পাশে রেখেছেন তিনি। যদিও নিয়মিত পড়ার সুযোগ হয় না কিন্তু বইটি ছুঁয়ে দেখেন প্রতিনিয়তই।
৩৩ বছর বয়সী দীর্ঘদেহী এই বক্সার ২০২০ ফেব্রুয়ারির পর এক বছরেরও বেশি সময় আছেন রিংয়ের বাইরে। শেষবার ডিওনটে উইলডারকে হারিয়ে বক্সিং থেকে অনেকটাই দূরে। এর কারণ অবশ্যই করোনাভাইরাস। তবে আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে রি-ম্যাচে খুব দ্রুতই নামছেন তিনি। ৯ অক্টোবর হবে তাদের ফিরতি লড়াই।