কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহতরা ছিল ‘তাদেরই সহযোগী’

আফগানিস্তান ছেড়ে আসার শেষ সময় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ড্রোন হামলায় নিহতরা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-আইএস সদস্য ছিল না। তারা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও এনজিও সংস্থার সহযোগী আফগান ও তাদের পরিবারের সদস্য।

ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল সাত শিশুসহ ১০ জন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’র অনুসন্ধানে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তখনো বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মার্কিন সেনাদের হাতে।

দেশত্যাগী মানুষের ঢলের মধ্যে গত ২৬ আগস্ট বিমানবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ ১৭০ আফগান নিহত হন।

ভয়াবহ ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএসের আফগানিস্তান শাখা আইএসকেপি। এরপর আইএসকে লক্ষ্য করে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৯ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় কাবুল বিমানবন্দরের পাশে ড্রোন হামলার ঘোষণা দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

তাদের দাবি ছিল, সন্দেহভাজন আইএস সদস্যের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে, যিনি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তারা দাবি করেন, ড্রোন হামলার পর দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নির্দেশ করে।

তবে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’’র তদন্তে দেখা গেছে, ওই গাড়িতে দ্বিতীয় কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি।

‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ওই ঘটনার বিস্তারিত ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে কেবল একটি বিস্ফোরণের চিহ্ন রয়েছে।

হামলায় নিহত ওই গাড়িচালকের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে পত্রিকা দুটির প্রতিবেদনে। তার নাম জেমারি আহমাদি। ৪৩ বছর বয়সী এই ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার আফগানিস্তানে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংস্থা নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন।

আহমাদি ও তার পরিবারের আরেক সদস্য যিনি মার্কিন সেনাদের কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন।

আহমাদির পরিবার ও সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, যে সাদা সেডান আহমাদি চালাতেন, সেটি নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের।

মার্কিন নজরদারির ড্রোন যে ভারী বস্তু তিনজনকে গাড়িতে ভর্তি করতে দেখেছিল, সেগুলো মূলত পানির কনটেইনার ছিল বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

কাবুলে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অফিস থেকে পানি নিচ্ছিলেন আহমাদি।

মার্কিন ড্রোন অপারেটর ওই সময় গাড়ির কাছে কেবল একজনকে দেখতে পেয়েছিলেন। তবে আহমাদির স্বজনদের দাবি, আহমাদি আঙিনায় পৌঁছালে তার ও ভাইয়ের ছেলেরা বের হয়ে আসে এবং গাড়িতে চড়ে বসে।