সাভারের আশুলিয়ার নিখোঁজের ৪ দিন পর মো. রবিউল ইসলাম (১০) নামে এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে আশুলিয়ার কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকার ফাইভ স্টার স্কুলের পাশে অবস্থিত মৃত আবুল হোসেনর বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশু রবিউল পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার ধোপাদাও গ্রামের মো. সুমন হোসেনের ছেলে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকায় আল-আমিন শেখের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার থেকে আবুল হোসেনের বাড়ির ভেতরে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন আশপাশের বাসিন্দারা। পর রবিবার দুপুরে ওই বাড়ির সিঁড়ির নিচে নিখোঁজ রবিউলের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিশুটির বাবা রিকশা চালক এবং মা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে রবিউলকে বাড়িতে রেখে তারা কাজে চলে যান।
পরে দুপুর একটার দিকে শিশুটির বাবা বাড়িতে এসে ছেলেকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর রবিবার স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই এলাকার আবুল হোসেনর বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শিশু রবিউলের বাবা সুমন হোসেন বলেন, ছেলেকে বাড়িতে না পেয়ে পরে বাড়ির মালিকের শ্বশুর কলিম উদ্দীন মাঝির বাড়িতে খোঁজ নিতে যান।
এ সময় বাড়ির মালিক আল-আমিন শেখের স্ত্রী ইয়াছিমন বেগম জানান, বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে রবিউল তাদের বাড়িতে এসেছিল। পরে কোথায় গেছে তারা জানে না।
তিনি আরও জানান, প্রায় এগারো মাস আগে বাড়ির মালিক আল-আমিনকে তিনি আড়াই লাখ টাকা ধার হিসেবে দিয়েছিলেন। সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়।
এদিকে শিশু রবিউল নিখোঁজের পর থেকেই আল-আমিন শেখের শ্বশুর ও শাশুড়ি বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গেছে। এ ঘটনায় তিনি শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।