ক্ষমতা দখলের পর নিরাপত্তার অজুহাতে নারীদের ঘরে থাকাত নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান। কাজে যোগ দিতে তাদেরকে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। তবে শনিবার কাবুল বিমান বন্দরের ১২ জন নারী কর্মী কাজে ফিরেছেন। খবর: খালিজ টাইমস।
তাদের একজন ৩৫ বছর বয়সী রাবেয়া জামাল জানান, তার মতো অনেক নারীরই বেশ সমস্যা হচ্ছিল। কারণ সংসার চালাতে তাদের টাকার দরকার। তাই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই বাধ্য হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন তারা।
বিমানন্দর থেকে তিন সন্তানের জননী রাবেয়া বলেন, ‘সংসার চালানোর জন্য আমার টাকা দরকার। বাসায় বসে আমি নানা উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম, খুব খারাপ লাগত। তবে এখন ভালো লাগছে।’
রাবেয়া ২০১০ সাল থেকে কাবুল বিমানবন্দরে কাজ করছেন। বাধা না পাওয়া পর্যন্ত এ কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাবেয়া বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আফগানিস্তানের সবচেয়ে ধনী নারী হওয়া। আর ভাগ্য সব সময় আমার সঙ্গেই থেকেছে। যতদিন কপাল ভালো থাকবে, তত দিন আমি পছন্দের কাজ চালিয়ে যাব।’
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরে কাজ করতেন ৮০ জনের বেশি নারী। তবে এখন কাজে ফিরেছেন মাত্র ১২ জন। গতকাল শনিবার তাঁদের ছয়জনকে বিমানবন্দরের প্রধান গেইটে নারী যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রাবেয়ার বোন কুদসিয়া জামালও ছিলেন সেখানে।
কুদসিয়া জামাল নামের ৪৯ বছর বয়সী ওই নারীর পাঁচ সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। কুদসিয়া বলেন, ‘আমি খুব ভয়ের মধ্যে ছিলাম। আমাকে নিয়ে পরিবার উদ্বেগের মধ্যে ছিল। তারা আমাকে কাজে ফিরতে মানা করেছিল। তবে আমি এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে আছি। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার মুখে পড়িনি।’
কাবুল বিমানবন্দরে রাবিয়ার আরেক সহকর্মী জালার স্বপ্ন ফ্রান্স চলে যাওয়া। এ উদ্দেশ্যেই তিনি শিখছেন ফরাসি ভাষা। ভাঙা ভাঙা ফরাসি ভাষায় তিনি ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘শুভ সকাল, আমাকে প্যারিসে নিয়ে যান।’ তাঁর এমন কথায় অন্যরা হেসে উঠলে তিনি আবার বলেন, ‘তবে এখন যাব না। কারণ, বিমানবন্দরে আজ হাতে গোনা যে কয়জন নারী কর্মী আছেন, আমি তাদের একজন'।
তালেবানরা এবার বলছে যে, তারা নিজেদেরকে পুরনো কঠোর নারী নীতি থেকে দূরে রাখতে চায়, যে নীতিতে আফগানিস্তানের নারীদেরকে কর্ম ও শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
তালেবানরা বলছে, তাদের এবারের শাসনে নারীরা ‘ইসলামের নীতি অনুযায়ী’ কাজ করতে পারে। কিন্তু তাদের এই কথার অর্থ ঠিক কী হতে পারে সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।
নারী অধিকার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের নতুন তালেবান সরকার। এরই মধ্যে নারীদের নিয়ে সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তালেবানের মুখপাত্র সাইদ জিকরুল্লাহ হাসিমি। তিনি বলেছেন, নারীরা মন্ত্রী হতে পারবেন না, তাদের কাজ সন্তান জন্ম দেওয়া।
তালেবানের অপর এক কর্মকর্তা আফগানিস্তানের নারীদের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে হিজাব না পরা নারীরা কাটা তরমুজের মতো বলে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তালেবানের ওই সদস্যের এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছেন। তালেবানের ওই সদস্য বলেন, ‘আপনারা কি কেউ কাটা তরমুজ কেনেন? নাকি আস্ত তরমুজ কেনেন? অবশ্যই গোটাটাই কেনেন। হিজাব না পরা নারীরা হলো ‘কাটা তরমুজ’।’
গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বারবার তালেবানের তরফ থেকে ইসালামি শরিয়া আইন অনুযায়ী নারী অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভায় কোনো নারী প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।