খাদ্য সংকট বাড়িয়েছে করোনাভাইরাস

প্রতি বছর খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। করোনাভাইরাস মহামারী এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। খাদ্য সংকট বলতে কী বোঝায়, কেন দিন দিন বাড়ছে এ সংকট, প্রত্যেকের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় কী? বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

খাদ্য নিরাপত্তা

১৯৯৬ সালে খাদ্য নিরাপত্তার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ফুড সামিট। সে সংজ্ঞায় বলা ছিল, ‘যখন সব সময় সবার খাদ্য তালিকায় চাহিদা ও পছন্দমতো খাবার থাকবে, প্রত্যেকে সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনের তাগিদে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার জোগান দিতে পারবে এবং এ জন্য পর্যাপ্ত শারীরিক ও আর্থিক সুযোগ পাবে তখনই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’ এ আশা যে কিছুটা উচ্চাকাক্সক্ষী সেটা অবশ্য স্বীকার করেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স বার্কলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে ক্লাইমেট অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সায়েন্স ডিভিশনে গবেষণার কাজ করছেন অ্যান্ড্রু ডি জোনস। আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশনে এ বিষয়ে অ্যান্ড্রু তার সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। তারা এই সংজ্ঞায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন ‘সব সময় খাদ্য নিরাপত্তা’ অংশটুকুর ওপর। অ্যান্ড্রু ও তার দলের মতে, ‘খাদ্যের নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিয়ে সব সময় কথা হয়। কিন্তু সব সময় খাবার পাওয়ার যে বিষয় তার দিকেই নজর দেওয়া হয় সবচেয়ে কম। বিভিন্ন সময় পরিবেশের বিভিন্ন বিরূপ পরিস্থিতি যেমন প্রতিকূল আবহাওয়া, মৃত্যু অথবা এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্ব সবকিছুতেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যেটাতে আমাদের কারও হাত থাকে না। এবার তো সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে কভিড-১৯। আবার এ ঘটনা কিন্তু একটা নয়। প্রতি বছরই এমন কোনো না কোনো দুর্যোগ বা বিরূপ পরিস্থিতি থাকেই। আর এতেই অনিশ্চিত হয় সবার খাবার পাওয়া।’

গত বছর থেকে খাদ্যশিল্পকে নানাভাবে আঘাত করেছে মহামারী। বিমান চলাচল ও সীমান্ত বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে পারেনি। অভিবাসী শ্রমিক যারা শস্য জমানোর ওপর ভরসা করতেন তারা বেশ বিপদে পড়েছেন। যখন এ সমস্যাগুলো অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে ঠিক তখনই খাবারের অভাব দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতে খাবারের ঘাটতি শুরু হয়েছে। ‘সবার জন্য খাবার’ এমনটি নিশ্চিত করে বলা এখন কারও পক্ষে সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে ৭৬৮ মিলিয়ন মানুষ অভুক্ত রয়েছে। ২০১৯ সালে যত মানুষের ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রয়োজন ছিল তার তুলনায় এবার ১১৮ মিলিয়ন বেশি মানুষের খাবার প্রয়োজন।

ক্ষুধা সীমার মধ্যে বাস করছে অসংখ্য মানুষ। ঋঅঙ এর তথ্যমতে, শুধু ২০২০ সালেই পর্যাপ্ত খাবার পায়নি ২.৩৭ বিলিয়ন মানুষ। খাদ্য অনিশ্চয়তায় পড়েছে ৯২৮ মিলিয়ন মানুষ। এদের অর্ধেকই বাস করে এশিয়ায়, এক-তৃতীয়াংশের অবস্থান আফ্রিকাতে এবং বাকি অংশ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানে। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পারছে না এ তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা এ দুই এলাকায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। ২০১৭ ও ২০১৯ সালের মধ্যে, এ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের হার কমেছে ৮.৪ শতাংশ।

দেশে দেশে খাবারের অভাব

দরিদ্র দেশে মানুষ খাবার পাচ্ছে না এ তথ্য মানা যতটা সহজ, ঠিক ততটাই কঠিন আধুনিক দেশগুলোতে খাবারের অভাব এ কথা মেনে নেওয়া। কিছু দেশে অনেক মানুষ বাস করছে খাদ্য মরুভূমিতে। সেখানে তারা পুষ্টিকর খাবার তো দূর, পর্যাপ্ত যেটুকু দরকার সেটুকু খাবারও পায় না। ২০১৯ সালের এক তথ্যমতে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের এসব দেশে ১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাতে পারেনি।

উন্নত আমেরিকাতে খাবারের অনিশ্চয়তায় পড়েছে এমন আরেকটি জায়গার নাম মিসিসিপি। এ এলাকায় ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো দুপুরের খাবার জোগাতে পারে না। এমন পরিস্থিতির জন্য শুধু করোনা মহামারীকে দায়ী করলেই হবে না। আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতে মানুষকে খাবার অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে নানা বিষয়ের দ্বন্দ্ব ও আবহাওয়ার পরিবর্তন সমানভাবে দায়ী।

জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সে পরিকল্পনা সফল হওয়া সম্ভব নয়। সে সময় পর্যন্ত গেলেও হিসাব অনুযায়ী ৬৬০ মিলিয়ন মানুষ অভুক্ত থাকবে।

আবাদি জমির অনিশ্চয়তা

যতভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হোক না কেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মোটেও সহজ নয়। কোন বিষয়গুলো থাকলে বোঝা যায় যে একটি জাতি খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগছে? খাদ্য অনিশ্চয়তা যাচাই করার কয়েকটি পদ্ধতি আছে। যেমন কৃষি, যাতায়াত, উৎপাদন, অর্থনীতি, পুষ্টি ও সামাজিক বিষয় ইত্যাদি। যে কোনো জাতিকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সহায়তা করতে পারে সে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, সিসিলিতে সর্বনিম্ন দেড় স্কয়ার কিলোমিটার (মাথাপিছু) আবাদি জমি আছে। পালাউতে ৩, সিঙ্গাপুরে ৫.৬ এবং আন্দোরাতে আছে ৮.৩ স্কয়ার কিলোমিটার (মাথাপিছু)। এ হিসাব নিজ নিজ এলাকার ৪০ শতাংশ। পরিমাণ কম মনে হলেও এলাকা ও মানুষ বুঝে এ জায়গাগুলো যথেষ্ট। আবার জনসংখ্যার ঘনত্বের কথা বললে হংকংয়ের উদাহরণ দেওয়া যায়। সেখানে মাথাপিছু ৩০০ স্কয়ার জমি রয়েছে চাষের জন্য। অথচ এ দেশের তুলনায় তা কিছুই নয়। 

যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার, জার্মানিতে এক লাখ ১৭ হাজার এবং ফ্রান্সে এক লাখ ৮১ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার আবাদি জমি রয়েছে। আমেরিকা অবশ্য এ তালিকায় কিছুটা ওপরের দিকে, ১.৫৭ মিলিয়ন, ভারত ১.৫৬ মিলিয়ন এবং রাশিয়ায় ১.২২ মিলিয়ন স্কয়ার কিলোমিটার আবাদের জায়গা রয়েছে। সহজ ভাষায়, এসব এলাকা যদি নিজেদের আবাদি জমি কাজে লাগায় তাহলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পাওয়ার একটি রাস্তা তৈরি হয়।

জমির বিকল্প

যদি কোনো দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কম থাকে সেক্ষেত্রে কী হতে পারে? সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ না হয় তাহলে সমস্যা বেশি হবে। তাদের প্রচুর খাবার এখনো বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এর অর্থ হচ্ছে, যদি কখনো তাদের অর্থ সংকট হয়, অথবা খাবার আনা সম্ভব না হয় তখনই খাদ্য ঘাটতি ব্যাপকহারে দেখা দেবে। এ সমস্যা সমাধানে ইনডোরে চাষ পদ্ধতি পুরোটা না হলেও অনেকখানি সমাধান এনে দিতে পারে। যদি একবার অভ্যাস তৈরি করা যায় তাহলে হয়তো খাদ্য অনিশ্চয়তাও কমে আসবে।

এ বিষয়ে একমত মাইক জেলকিন্ড। তিনি আমেরিকার ৮০ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা একটি খামারের মালিক। তিনি বলেন, ‘শস্য একটি অন্যটির ওপর লেয়ার করে লাগানো যায়, জায়গাও কম লাগে। নিয়মিত যতœ নিলে গাছ খুব দ্রুত বাড়ে। একটি ইনডোর খামারে মাঠে চাষের তুলনায় ৩০০/৪০০ বার বেশি চাষ করা যায়।’ সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের ইনডোর খামার ফার্ম ৬৬, সাসটেনির ও মোভার্টিকাল। এদের মধ্যে মোভার্টিকাল কাজ করছে শিপিং কন্টেইনার দিয়ে। এই কন্টেইনারের সুবিধা হচ্ছে এগুলো যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে নেওয়া যায়। এসব পদ্ধতি শুধু নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে না রেখে বিভিন্ন দেশেই চালু করা উচিত। বর্তমানে ইনডোর খামারে কেবল সালাদের জন্য বিভিন্ন পাতা, ঔষধি, ছোট ফল এবং স্ট্রবেরি ও টমেটো চাষ করা হচ্ছে। এসব খাবার খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ইনডোর খামারে আরও বিভিন্ন ধরনের খাবার উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। যেমন সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি গবেষণাগারে জন্মানো স্তন্যপায়ী কোষ থেকে কাঁচা গরুর দুধ তৈরি করছে। বায়োরেক্টরে এই কাঁচা দুধ থেকে সরাসরি দুধ উৎপাদন করা হয়। এটিকে সবুজের বিকল্প হয়তো বলা যাবে না। তবে গ্রিন হাউজ গ্যাস উৎপাদনে যেখানে ডেইরি শিল্পেরও চার শতাংশ ভূমিকা আছে, তা অন্তত ইনডোর দুধ উৎপাদনে কমে আসবে।

এই পদ্ধতি তৈরি করেছে টার্টল ল্যাব। এর প্রধান কৌশলবিদ ম্যাক্স রাইয়ের পরামর্শ হচ্ছে, ‘যে সব এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো জটিল সমস্যা তৈরি করেছে, সেসব এলাকায় বায়োরিয়েক্টরের ব্যবহার করাই যায়। এতে মানুষের মধ্যে অন্তত প্রয়োজনীয় পরিমাণ দুধ সরবরাহ করা যাবে।’

তবে যেসব দেশে যথেষ্ট পরিমাণ আবাদি জমি আছে, তাদেরও যে এ পদ্ধতির প্রয়োজন হবে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রথমত, সব জমিতে সমভাবে কৃষিকাজ করা যায় না। আবার জায়গা থাকলেও আবহাওয়া যে অনুকূলে থাকবে তাও নিশ্চিত নয়। মরুভূমি আছে এমন কিছু দেশে মাটিবিহীন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জর্ডানে কেবল ১১.৫ শতাংশ জমি কৃষির জন্য ব্যবহার করা হয়। এ এলাকায় গড়ে উঠেছে সাহারা ফরেস্ট প্রজেক্ট। গ্রিন হাউজ প্রকল্প ব্যবহার করে এখানে খাবার উৎপাদন করা হয়। একই ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে সোমালিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।

সম্প্রতি এ তালিকায় নাম লিখিয়েছে কাতারও। গ্রিনহাউজ পদ্ধতি ব্যবহার করে খাবার উৎপাদনে মানুষকে উৎসাহী করে তুলছে তারা। চলতি বছর থেকে ৩৪০.১ স্কয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে গ্রিনহাউজ প্রকল্পে সবজি চাষ করছে কাতার। ২০২০ সালের শেষে কাতার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কেনার জন্য একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল।

পর্যাপ্ত জমি ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও যে কোনো দেশ খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগতে পারে। চিলির ইউনিভার্সিদাদ দি লা ফ্রন্টেরার জিওগ্রাফির প্রফেসর লিন্ডসে কার্ট বলেন, ‘কার কতটুকু জমি আছে এটা কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য নয়। যদি সব পণ্যের প্রস্তুতকারক অন্য কোনো দেশ হয় তাহলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য চিন্তার বিষয় সেটাই।’ জমির মালিকরা শুধু শস্য উৎপাদন করতে পারে। অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকাতে তামাক, কফি, চকলেট, বাদাম, সয়া অথবা পেঁপে বা আনারসের মতো বড় ফল জন্মাতে পারে। এদের মধ্যে কিছু স্থানীয়ভাবে বিক্রি হলেও বেশিরভাগই জাহাজে করে অন্য দেশে চড়া দামে বিক্রি হয়।

জমির অংশীদারিত্ব

মধ্য আমেরিকার অন্যতম দরিদ্র দেশ নিকারাগুয়াতে ৪০ শতাংশ মানুষ গ্রাম্য এলাকায় বাস করে। কৃষকরা এল সালভেদর অথবা কোস্টারিকাতে গিয়ে জমির মালিকদের সঙ্গে কাজ করে। মহামারীতে অনেককেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। অনেকেই তাদের আয়ের পথ হারিয়েছে। নিজ দেশের বাইরে যখন আয়ের পথ ছিল সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে এসব এলাকায়। এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ ভাগে ফসল চাষ করে। তারা চাইলে বড় খামারে কাজের বিনিময়ে ক্ষুদ্র একটি জমির অংশীদার হতে পারে। যেখানে তামাক, ভুট্টাসহ পছন্দসই যে কোনো সবজি চাষ করতে পারে। পরিবারের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এসব খাবার খুবই উপকারী। আবার বাড়তি কিছু চাইলে বিক্রিও করা যায়। খাদ্য নিশ্চয়তার পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতাও সম্ভব।

আবহাওয়ার প্রতিকূলতা ও রোগ

উগান্ডার লেক ভিক্টোরিয়া, তানজানিয়া ও কেনিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছ চাষের এলাকা। মাছ চাষে অন্তত ৪০ মিলিয়ন মানুষ আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছে। গ্রীষ্মকালে এসব মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। স্থানীয় জেলেদের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় এসব মাছ দ্রুত বিক্রি করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে হয় সেগুলো নষ্ট হয়, নয় সেগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হয়। উপায় না পেয়ে অনেকে কম দামে সেগুলো বিক্রি করে দেন। শস্যের নানা রোগও খাদ্য অনিশ্চয়তার অন্যতম আরেকটি কারণ। গত কয়েক দশকে, লাতিন আমেরিকাসহ কয়েক জায়গায় কফি শস্যে ক্ষয়রোগ দেখা গিয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ বন্য কফি বিপদের মুখে রয়েছে। নতুন যেসব শস্যের ধরন নিয়ে কাজ হচ্ছে সেগুলোতেও এসব আক্রমণের সম্ভাবনা আছে। এসব কারণেও খাদ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

অনিশ্চয়তা দূর করতে

যেহেতু বিশ্বজুড়ে খাবারের অনিশ্চয়তা বাড়ছে, কাজেই এর সমাধানই এখন একমাত্র চিন্তার বিষয়। এ সমস্যার সমাধানে কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলো ভুলে যাওয়া যাবে না। ইনডোর চাষ করে হলেও যতটা সম্ভব উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য সরবরাহ ধরে রাখার জন্য বড় বড় সব সম্প্রদায় ও জমির মালিকদের এগিয়ে আসা জরুরি। ভূমিহীন কৃষকদের চাষের সুযোগ এ ক্ষেত্রে অনন্য হতে পারে।