৪ বছর ধরে খাড়া শুধু পিলার

দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের চান্দহর নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। বাড়তি সময়েও সেতুটি দৃশ্যমান হওয়া তো দূরের কথা, মোট কাজের অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুধু পিলার নির্মাণেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে সেতুটির নির্মাণকাজ। অথচ এই একটি সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে ছোট খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার লাখো মানুষকে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে যথাসময়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পার হওয়ার পর সম্প্রতি চুক্তিটি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এমন পরিস্থিতিতে নদী পারাপারে জনগণের ভোগান্তির পালা আরও বেড়ে গেল।

এলজিইডির সিঙ্গাইর কার্যালয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সরকারি অর্থায়নে পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে চান্দহর নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছর মেয়াদে কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, সেতু নির্মাণস্থলে পন্টুন আনা এবং বালুর দরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে চুক্তির সময়সীমার মধ্যে কাজের তেমন একটা অগ্রগতি না হওয়ায় এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ দুই দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ায়। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সেতুটি দৃশ্যমান হওয়া তো দূরের কথা, মোট কাজের অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুধু পিলার তৈরিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশনের সাইট অফিসের সহকারী প্রকল্প প্রকৌশলী মো. মোহসীন বলেন, ‘চান্দহর নদীটির প্রবেশপথ পার্শ্ববর্তী ইটাভাড়া এলাকায় নদীর মুখ বন্ধ থাকায় ব্রিজ নির্মাণস্থলে পন্টুন আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া সরকারি রেট অনুযায়ী বালুর মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি ঘনফুট ৫ টাকা। অথচ এখানে খরচ পড়ে ১২ টাকা। কোনোভাবেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।’ আদৌ সেতুর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এই প্রকৌশলী।

তবে এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে পন্টুন আনার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না করে উল্টো কাজ বন্ধ রাখায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

তবে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি জানা নেই বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন।

চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদল বলেন, ‘চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ মমতাজ বেগমকে দিয়ে বলানো সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ব্রিজটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্র্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির সিঙ্গাইর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য চিঠি দিয়ে পন্টুন আনার রিমাইন্ডার দেওয়াসহ দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই বর্ধিত মেয়াদ পার হওয়ার পর চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। বতর্মানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিমাণ ও আর্থিক পাওনাদির হিসাবের কাজ চলছে। চুক্তি বাতিলের পর অবশিষ্ট কাজের ব্যয় নির্ধারণ করে তা অনুমোদনের জন্য এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’