সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিবহন খাতে সুশাসন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা জরুরি হলেও খাতটি গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে যাত্রীদের স্বার্থ।
তিনি বলেছেন, সরকার ২০১৮ সালে সড়ক পরিবহন আইন করলেও এই গোষ্ঠীস্বার্থের কারণে তার বেশ কিছু ধারা কাটছাঁট করা হচ্ছে। এতে বছরের পর বছর যাত্রীদের স্বার্থ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘যাত্রী হয়রানি ও ভাড়ানৈরাজ্য বন্ধের পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ছয়টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন হোসেন জিল্লুর। এগুলো হলো ভাড়া ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের সঙ্গে বাসচালক-সহকারীদের ভালো ব্যবহার, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা, বাসে ওঠানামায় শৃঙ্খলা তৈরি, পর্যাপ্ত যাত্রীছাউনি নির্মাণ ও সড়কে বাতির ব্যবস্থা করা।
সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হলো জীবনের নিরাপত্তা। কিন্তু একজন মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে ফিরতে পারবে কি না, সে নিশ্চয়তা নেই। একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ৬০ জন মানুষ মারা যায়। বছরে মারা যাচ্ছে অন্তত ২৩ হাজার মানুষ। তাই সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে যাত্রীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘ বিধিনিষেধ শেষে চালু হওয়া গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়ানৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, মাসে পরিবহন খাতে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এই টাকা যাত্রীদের পকেট থেকে কাটা হচ্ছে। যাত্রী, শ্রমিক, এমনকি বাসমালিকেরাও পরিবহন খাতের এই দুর্বৃত্তদের কাছে অসহায়। দেশের পরিবহন খাত কিছু চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি, ভাড়ানৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, সড়কে দুর্ঘটনা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতীকী দিবস হিসেবে দেশে তৃতীয়বারের মতো ১৩ সেপ্টেম্বরকে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সভায় দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়।