খাগড়াছড়িতে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ অবস্থা

খাগড়াছড়ি জেলার সর্বশেষ উপজেলা গুইমারা। এই উপজেলার অন্যতম পুরোনো বিদ্যালয় গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালের স্থাপিত হলেও দীর্ঘ ৫৫ বছরে এই বিদ্যালয়ে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকায় লক্ষীমূড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও নাজুক।

এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর দাবি বিদ্যালয় দুটোতে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

জানা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া এলাকায় লক্ষীমূড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৮৭ সালে, জাতীয়করণ হয় ২০১১ সালে।

এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি ত্রিপুরা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভুবন সিংহ ত্রিপুরা জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, পাঠদান করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। একমাত্র পাকা ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। দরজা জানালাও নেই। বর্ষায় ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এই ভবনের পাশে একটি টিনের ঘর আছে, সেটিও জীর্ণশীর্ণ, নেই বেঞ্চ চেয়ার, টেবিল। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত শিক্ষক আছেন ৪ জন।

অন্যদিকে সিন্দুকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি সড়কের পাশে গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে স্থাপিত হলেও দীর্ঘ ৫৫ বছরেও কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিপ্রুচাই মারমা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভাপতি হ্লাউপ্রু চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুটো জরাজীর্ণ বাংলা ঘরে পাটিশন দিয়ে দুটি কক্ষ করা হয়েছে। এতেই চলে শ্রেণি কার্যক্রম। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক একজন দপ্তরি কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৬ জন।

সদরের রঞ্জনমনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধনাসেন সেন জানান, এই বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। কোনরকমে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন, যে কোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রঞ্জন মনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাত ভাইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগড়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলা ৪৯টি এ ধরনের জরাজীর্ণ  বিদ্যালয় রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লক্ষীমূড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জেনেছি। পরিদর্শনও করেছি।

পরে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জরাজীর্ণ এবং শ্রেণি পাঠদান উপযোগী নয় এমন বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছেন। তালিকা পেলে তিনি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তিনি আশা করেন মন্ত্রণালয় যাচাইবাছাই করে দ্রুত এই বিদ্যালয়গুলোর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।