টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার দুই পাশ ঘেরা বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাইসমিল ও মসজিদসহ জনপথ।
ভাঙন আতঙ্কে নদীর তীরবর্তী অসহায় মানুষেরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বরে জানা গেছে।
এ ছাড়া ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বংশাই নদীর ওপর নির্মিত আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন সেতু।
নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মির্জাপুর পৌর এলাকার বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙনের চিত্র তীব্র হয়ে উঠে।
ইতিমধ্যে মির্জাপুর পৌর এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী দক্ষিণ পাড়া ও চার নম্বর ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগড়পাড়া) এবং বাওয়ার কুমারজানী উত্তরপাড়ার প্রায় অর্ধশত বাড়ি, শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগড়পাড়া) গ্রামের মসজিদটিও।
পানি কমতে থাকলে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া বংশাই নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ২৫০টি পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ দরিদ্র শ্রেণির। তারা বেশির ভাগ পরিবারই ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ওই এলাকার নদী পাড়ের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের আশ্রয়স্থলটুকুও হারিয়ে যেতে বসেছে।
একই সঙ্গে ওই এলাকায় অবস্থিত বিসমিল্লাহ রাইসমিল এবং বাওয়ার কুমারজানী উত্তরপাড়াও নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
লৌহজং নদীর ভাঙনে পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী গ্রামের ফজলু মিয়া, লতিফ সিকদার, জিয়ার উদ্দিন, সোনা মিয়া, জহের আলী, ফজল মিয়া, আনু মিয়া, খবির উদ্দিন, তারা মিয়া, বারেক মিয়া, সুরুজ, ফিরোজ, ফরিদ, আলম, সুজন, মুক্তি মিয়া, তাইজুল সিকদার ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগড়পাড়া) গ্রামের রফিকুল ইসলাম স্বাধীন আহসানের ঘরবাড়িসহ প্রায় শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে নদী ভাঙনের ফলে বংশাই নদীর ওপর ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন সেতুও রয়েছে ঝুঁকিতে।
সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ দুই পাশেই শুকনো মৌসুমে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা এবং বর্ষা মৌসুমে ড্রেজার দিয়ে বালি তোলার মহোৎসব চলে। এসব মাটি ও বালি লুটকারীদের প্রতিহত করা না গেলে সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
পুষ্টকামুরী গ্রামের ফজলু মিয়া বলেন, তিনি তার জীবনের উপার্জন দিয়ে একটি একতলা ভবন করেছেন। লৌহজং নদীর অসময়ের ভাঙনে ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাঙন আতঙ্কে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না বলে তিনি জানান।
নদী ভাঙনের কবলে পড়া সওদাগড় পাড়ার বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করছে। কিন্তু তার বাড়িটি আস্তে আস্তে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ঘরবাড়িসহ তার প্রায় কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে চলে গেছে। তাকেসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তোলার জন্য সরকারিভাবে জমি দেয়ার দাবি জানান।
ওই পাড়ার বাসিন্দা বাবুল বলেন, প্রতি বছর আমরা নদী ভাঙনের কবলে পড়ি। কিন্তু আমদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসে না। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় কোনো কাজ হচ্ছে না।
বিসমিল্লাহ্ রাইসমিলের মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে দিন কাটে। ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না হলে মিলটি রক্ষা করা যাবে না।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।